পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে বড়সড় উদ্বেগের ছবি সামনে আনল নির্বাচন কমিশন। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ‘নো-ম্যাপিং’ হিসেবে চিহ্নিত লক্ষ লক্ষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৩ লক্ষের বেশি ভোটার কমিশনের নোটিস পেলেও শুনানিতে হাজির হননি। ফলে তাঁদের ভোটার তালিকায় থাকা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে মোট ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬ জন ভোটারকে ‘নো-ম্যাপিং’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ভোটাররা ২০০২ সালের শেষ এসআইআরের সঙ্গে নিজেদের নাম বা ঠিকানার কোনও যোগসূত্র দেখাতে পারেননি। সেই কারণেই কমিশন প্রথম পর্যায়ে তাঁদের প্রত্যেককে শুনানির জন্য নোটিস পাঠায়। মোট প্রায় ৩২ লক্ষ ভোটারকে দিনক্ষণ জানিয়ে শুনানিতে হাজির হতে বলা হয়।
কিন্তু শুনানির প্রক্রিয়া প্রায় শেষের মুখে এসে দেখা যাচ্ছে, মোট নোটিসপ্রাপ্ত ভোটারের প্রায় ১০ শতাংশ, অর্থাৎ আনুমানিক ৩ লক্ষ ২০ হাজার ভোটার এখনও পর্যন্ত হাজির হননি। কমিশনের মতে, এটি একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যা এবং এর প্রভাব পড়তে পারে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায়।
শুধু ‘নো-ম্যাপিং’ নয়, যাঁদের তথ্যগত অসঙ্গতি বা লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি রয়েছে—তাঁদেরও শুনানিতে ডাকা হয়েছে। কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৭ ফেব্রুয়ারি এসআইআর শুনানির শেষ দিন। এরপর ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা, যদিও প্রয়োজনে সেই সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে, এখনও পর্যন্ত শুনানির দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কোনও ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটার যদি দেরিতে হলেও শুনানিতে অংশ নিতে চান, তাঁদের সেই সুযোগ দেওয়া হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শুনানিতে হাজির না হলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়বে।
এর মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশ করতে চলেছে কমিশন। শনিবার সেই তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটারদের তালিকাও প্রকাশ করা হবে। কমিশনের হিসেব অনুযায়ী, এই দুই মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ২৬ লক্ষ ভোটারের নামের তালিকা প্রকাশ পেতে চলেছে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বড় আলোড়ন ফেলতে পারে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়ই ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়ে। এবার যদি শুনানিতে অনুপস্থিত প্রায় ৩ লক্ষ ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ যায়, তবে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ৬১ লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে।
এই পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবি যেমন উঠছে, তেমনই ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন বহু মানুষ। এখন দেখার, শেষ মুহূর্তে কতজন ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটার শুনানিতে অংশ নিয়ে নিজেদের নাম বাঁচাতে পারেন।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.