মুদ্রাস্ফীতির চাপে আজকের দিনে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য নিয়মিত মাসিক খরচ চালানো ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। স্থায়ী চাকরির অভাব, অনিশ্চিত আয় কিংবা অবসর-পরবর্তী জীবন—সব ক্ষেত্রেই একটি নিশ্চিত মাসিক আয়ের উৎস থাকলে অনেকটাই নিশ্চিন্ত থাকা যায়। ঠিক এই জায়গাতেই সাধারণ মানুষের ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে ডাকঘরের Monthly Income Scheme (MIS)।
পোস্ট অফিস MIS এমন একটি সঞ্চয় প্রকল্প, যেখানে একবার এককালীন বিনিয়োগ করলেই প্রতি মাসে নিশ্চিত সুদ পাওয়া যায়। ঝুঁকিহীন এই স্কিম বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, গৃহস্থ দম্পতি এবং নিরাপদ আয়ের খোঁজে থাকা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
কীভাবে কাজ করে পোস্ট অফিস MIS?
পোস্ট অফিস MIS একটি এককালীন বিনিয়োগ ভিত্তিক স্কিম। অর্থাৎ, অ্যাকাউন্ট খোলার সময় একবারই টাকা জমা দিতে হয়। জমা টাকার উপর নির্ধারিত বার্ষিক সুদকে ১২ ভাগ করে প্রতি মাসে সরাসরি অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। বর্তমানে এই স্কিমে বার্ষিক ৭.৪০ শতাংশ সুদের হার দেওয়া হচ্ছে, যা অনেক ব্যাংক FD বা অন্যান্য স্থায়ী আয়ের প্রকল্পের তুলনায় বেশ আকর্ষণীয়।
এই স্কিমের মেয়াদ ৫ বছর। পুরো ৫ বছর ধরে বিনিয়োগকারী প্রতি মাসে সুদের টাকা পান এবং মেয়াদ শেষে মূল জমাকৃত টাকা সম্পূর্ণ ফেরত পাওয়া যায়।
স্বামী-স্ত্রী কীভাবে বেশি আয় করতে পারেন?
পোস্ট অফিস MIS-এ সিঙ্গেল এবং জয়েন্ট—দুই ধরনের অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা রয়েছে।
সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করা যায় ৯ লক্ষ টাকা।
স্বামী-স্ত্রীর জয়েন্ট অ্যাকাউন্টে এই সীমা বেড়ে হয় ১৫ লক্ষ টাকা।
যদি দম্পতি জয়েন্ট অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন, তাহলে বর্তমান সুদের হারে প্রতি মাসে ৯,০০০ টাকারও বেশি নিশ্চিত আয় পাওয়া সম্ভব। এই আয় নিয়মিত সংসারের খরচ, ওষুধ, বিদ্যুৎ বিল বা অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে বড় সহায়তা করে।
মেয়াদ শেষে চাইলে একই স্কিমে আবার সেই টাকাই পুনঃবিনিয়োগ করা যায়, ফলে দীর্ঘদিন ধরে মাসিক আয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব।
কেন এই স্কিম এতটা নিরাপদ?
পোস্ট অফিস MIS পুরোপুরি কেন্দ্রীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত। তাই শেয়ার বাজার বা আর্থিক বাজারের ওঠানামার কোনও প্রভাব এখানে পড়ে না। বিনিয়োগকারীরা চাইলে অ্যাকাউন্টে নমিনি যোগ করতে পারেন, যা ভবিষ্যতের জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষা দেয়।
জরুরি প্রয়োজনে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার সুবিধাও রয়েছে। যদিও এতে কিছুটা চার্জ কাটা হতে পারে, তবে হঠাৎ টাকার দরকার হলে এটি বড় সুবিধা।
কীভাবে অ্যাকাউন্ট খুলবেন?
পোস্ট অফিস MIS অ্যাকাউন্ট খুলতে হলে নিকটবর্তী ডাকঘরে যেতে হবে। প্রয়োজনীয় নথি হিসেবে লাগবে—
অ্যাকাউন্ট খোলার ফর্ম
KYC ডকুমেন্ট (আধার, ভোটার কার্ড ইত্যাদি)
PAN কার্ডের কপি
সব মিলিয়ে, স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে পরিকল্পনা করে পোস্ট অফিস MIS-এ বিনিয়োগ করলে ঝুঁকিমুক্তভাবে মাসিক আয়ের একটি শক্ত ভিত তৈরি করা সম্ভব, যা আজকের অনিশ্চিত সময়ে অনেকটাই মানসিক স্বস্তি দেয়।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.