শীতকাল এলেই বহু মানুষের জীবনে একটি পরিচিত সমস্যা দেখা দেয়—সকালে ঘুম থেকে উঠতে না পারা। ঠান্ডার কারণে শরীর ভারী লাগে, আলস্য ভর করে, আর বারবার অ্যালার্ম বন্ধ করে আবার ঘুমিয়ে পড়ার প্রবণতা বাড়ে। এই বাস্তব সমস্যার সহজ ও আধ্যাত্মিক সমাধান তুলে ধরেছেন বৃন্দাবনের জনপ্রিয় ধর্মগুরু ও রাধারানির একনিষ্ঠ ভক্ত প্রেমানন্দ মহারাজ। সম্প্রতি তাঁর একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যেখানে এক তরুণী শীতকালে দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা ও নেতিবাচক স্বপ্ন দেখার সমস্যার কথা জানান।
তরুণীর বক্তব্য শুনে প্রেমানন্দ মহারাজ প্রথমেই ঘুম ও স্বপ্নের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, যাঁরা অতিরিক্ত ঘুমোন, তাঁরাই বেশি স্বপ্ন দেখেন। তিনি বলেন, “২৪ ঘণ্টায় যদি কেউ মাত্র পাঁচ ঘণ্টা ঘুমোন, তাহলে স্বপ্ন প্রায় থাকেই না।” যদিও এই বক্তব্যের পেছনে আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, মহারাজ জোর দেন সংযম ও নিয়মের উপর।
এরপর তিনি সকালে ঘুম থেকে ওঠার সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে পরামর্শ দেন। প্রেমানন্দ মহারাজের মতে, ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই ঈশ্বরের নাম জপ করা উচিত। এতে মন পবিত্র হয় এবং খারাপ বা নেতিবাচক স্বপ্নের প্রভাব ধীরে ধীরে কমে যায়। নামজপ মনকে স্থির করে, দিনের শুরুতেই ইতিবাচক শক্তি জাগিয়ে তোলে।
তিনি আরও কড়া ভাষায় বলেন, যাঁরা রাতে দেরিতে ঘুমোতে যান এবং সকালে দেরিতে ওঠেন, তাঁদের জীবনযাপন পশুদের মতো হয়ে যায়। তাই সকলেরই ব্রহ্মমুহূর্তে—অর্থাৎ সূর্য ওঠার আগেই—ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। তাঁর মতে, যাঁরা সকালে দেরিতে ঘুমিয়ে থাকেন, তাঁরা আধ্যাত্মিকতা ও ধর্মের গভীর অর্থ সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারেন না।
আরও পড়ুন:প্রেমানন্দ মহারাজের ব্যাখ্যায় অকাল মৃত্যু: কর্মফল নাকি ভ্রান্ত বিশ্বাস?
প্রেমানন্দ মহারাজ আরও ব্যাখ্যা করেন, সকালে উঠে প্রথমেই হালকা হাঁটাহাঁটি করা ও ঈশ্বরের নাম জপ করা অত্যন্ত উপকারী। টানা এক মাস এই অভ্যাস বজায় রাখতে পারলে তা স্বভাবের অংশ হয়ে যায়। নামজপের অপরিসীম শক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাঁরা নিয়মিত জপ করেন, তাঁদের চরিত্র শুদ্ধ হওয়া জরুরি। শুদ্ধ আচরণ ও দৈনন্দিন জপ—এই দুই মিলেই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অগ্রগতির পথ খুলে দেয়।
আরও পড়ুন:নতুন আয়ের সুযোগ কার, আর্থিক টান কার?
সব মিলিয়ে, শীতের আলস্য কাটাতে প্রেমানন্দ মহারাজের উপদেশ কেবল শারীরিক নয়, মানসিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির দিকেও পথ দেখায়। নিয়ম, সংযম ও ভক্তির সমন্বয়েই সম্ভব সুস্থ ও সচেতন জীবনযাপন।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.