অকাল মৃত্যু—এই শব্দবন্ধটি শুনলেই অনেকের মনে ভয়, আশঙ্কা আর অজানা শঙ্কা জন্ম নেয়। সমাজে প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, অল্প বয়সে মৃত্যু মানেই তা অশুভ গ্রহদোষ, পূর্বজন্মের পাপ বা কোনো অজানা অভিশাপের ফল। জ্যোতিষশাস্ত্রেও রাহু, কেতু, শনি কিংবা মঙ্গলের প্রভাবকে অনেক সময় অকাল মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এমনকি পিতৃদোষ বা কালসর্প দোষের কথাও উঠে আসে এই প্রসঙ্গে।
এই ভয় থেকেই মানুষ নানা উপায় খোঁজে—মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ, উপবাস, দান, শিব ও হনুমানের আরাধনা ইত্যাদি। কিন্তু সত্যিই কি অকাল মৃত্যু পূর্বনির্ধারিত? নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনও গভীর তত্ত্ব? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন আধ্যাত্মিক গুরু প্রেমানন্দ মহারাজ।
এক আলোচনার সময় এক ব্যক্তি প্রেমানন্দ মহারাজকে প্রশ্ন করেন—অকাল মৃত্যু কি পূর্বনির্ধারিত? উত্তরে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, অকাল মৃত্যু কখনওই জন্মগতভাবে নির্ধারিত নয়। তাঁর মতে, কেউ তখনই অকাল মৃত্যুর শিকার হন, যখন তিনি জীবনে গুরুতর পাপ বা মারাত্মক অপরাধ করে থাকেন।
আরও পড়ুন:শনি–বৃহস্পতি মহাসংযোগে খুলছে ভাগ্যের দরজা, ২০২৬-এ এই ৩ রাশির টাকার চিন্তা শেষ!
প্রেমানন্দ মহারাজ ব্যাখ্যা করেন, মানুষ জানুক বা না জানুক—যদি সে গুরুতর অন্যায় করে, তবে তার কর্মফল অনুযায়ী আয়ুষ্কাল কমতে শুরু করে। এই আয়ু হ্রাসই একসময় অকাল মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। অর্থাৎ, এটি কোনও দৈব দুর্ঘটনা নয়, বরং কর্মফলেরই পরিণতি।
আরও পড়ুন: হাসির আড়ালে জমে থাকা কষ্ট: আবেগ লুকোনোর পাঁচ রাশির মনস্তত্ত্ব
তিনি আরও বলেন, অকাল মৃত্যু ভয় পাওয়ার বিষয় নয়, বরং আত্মসমালোচনার বিষয়। নিজের কর্ম, আচরণ ও নৈতিকতা যদি শুদ্ধ রাখা যায়, তবে এই ভয় থেকেও মুক্তি সম্ভব। শুধুমাত্র মন্ত্র জপ বা পূজাই নয়, সৎ জীবনযাপনই আসল প্রতিকার।
আরও পড়ুন:জন্মসংখ্যা ৬: কেরিয়ারে সাফল্য, প্রেমে পরীক্ষা—২০২৬ কী বার্তা দিচ্ছে?
প্রেমানন্দ মহারাজের মতে, মানুষের উচিত নিজের কর্মের দায় নিজেই নেওয়া এবং জীবনকে সৎ ও ধার্মিক পথে পরিচালিত করা। তাহলেই আয়ু স্বাভাবিক নিয়মে পূর্ণ হয় এবং অকাল মৃত্যুর আশঙ্কা দূরে থাকে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.