অনেকেই বছরের পর বছর একই বালিশ ব্যবহার করেন। বাইরে থেকে পরিষ্কার ও ভালো দেখালেও দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে বালিশের ভেতরের গঠন বদলে যায়। এতে ঘুমের মান যেমন কমে, তেমনই শরীরের উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
কেন নিয়মিত বালিশ বদলানো জরুরি?
প্রতিদিন বালিশের উপর জমে ঘাম, ত্বকের মৃত কোষ, ধুলাবালি ও নানা ধরনের অণুজীব। সময়ের সঙ্গে এগুলি অ্যালার্জি, ত্বকের সমস্যা বা শ্বাসযন্ত্রের অস্বস্তির কারণ হতে পারে। পাশাপাশি বালিশের আকার ও নরমত্ব নষ্ট হলে মাথা ও ঘাড়ের সঠিক সমর্থনও পাওয়া যায় না।

কোন বালিশ কত দিন ব্যবহার করা উচিত?
১. পলিয়েস্টার বালিশ
এই ধরনের বালিশ তুলনামূলক সস্তা ও আরামদায়ক হলেও এর আয়ু কম। সাধারণত ৬ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত ভালো থাকে। যত্নে ব্যবহার করলে ৩ বছর পর্যন্ত চলতে পারে, তবে চেপ্টে গেলে বা আকৃতি নষ্ট হলে বদলে ফেলাই ভালো।
২. পালকের বালিশ
প্রাকৃতিক পালক দিয়ে তৈরি বালিশ নরম ও টেকসই। সঠিক পরিচর্যা করলে ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা সম্ভব। তবে নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি।
৩. মেমরি ফোম বালিশ
ঘাড় ও মেরুদণ্ডের সঠিক অবস্থান বজায় রাখতে এই বালিশ জনপ্রিয়। সাধারণভাবে ৪ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে। পরিষ্কার সুতির কভার ব্যবহার এবং নিয়মিত কভার ধোয়া উচিত।
৪. শিমুল তুলোর বালিশ
বাংলার ঘরে বহুল ব্যবহৃত এই প্রাকৃতিক বালিশ সাধারণত ২ থেকে ৩ বছর ভালো থাকে। ভেতরের তুলো দলা পাকিয়ে গেলে বা সমানভাবে না থাকলে নতুন বালিশ নেওয়া উচিত।
কখন বুঝবেন বালিশ বদলানোর সময় এসেছে?
*বালিশ চেপ্টে গিয়ে আগের মতো ফুলে উঠছে না।
*ঘুম থেকে উঠে ঘাড় বা কাঁধে ব্যথা হচ্ছে।
*বালিশে স্থায়ী দাগ বা দুর্গন্ধ তৈরি হয়েছে।
*অ্যালার্জি বা হাঁচির সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে।
*ভেতরের উপাদান অসমান হয়ে গেছে।
*বালিশের আয়ু বাড়াতে কী করবেন?
*সবসময় পরিষ্কার কটন কভার ব্যবহার করুন।
*নির্দিষ্ট সময় অন্তর কভার ধুয়ে নিন।
*বালিশ রোদে বা বাতাসে শুকিয়ে নিন।
*প্রস্তুতকারকের নির্দেশ অনুযায়ী পরিষ্কার করুন।
উপসংহার
ভালো ঘুমের জন্য শুধু ভালো বিছানা নয়, সঠিক অবস্থায় থাকা বালিশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বালিশের উপাদান অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর তা বদলে ফেললে ঘাড়ের সমস্যা, অ্যালার্জি ও ত্বকের নানা জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.