Akriti Kakar: কলকাতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। হিন্দিভাষী পরিবারে জন্ম হলেও বাংলা গান ও বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ তৈরি হয়েছে তাঁর। বাংলা ছবিতে একের পর এক জনপ্রিয় গান গাওয়ার পাশাপাশি গানের রিয়্যালিটি শো-এর বিচারকের আসনেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। তিনি গায়িকা আকৃতি কক্কড়। তবে শুধু প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে পরিচিত হয়ে থাকতে চান না আকৃতি(Akriti Kakar)। নিজের গান তৈরি করে একজন পূর্ণাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী হিসেবেই মানুষের মনে জায়গা করে নিতে চান তিনি।
সম্প্রতি কলকাতায় এসে নিজের সঙ্গীতজীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আকৃতি জানান, গান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তিনি যথেষ্ট সচেতন। তাঁর কথায়, পারিশ্রমিকের চেয়ে গানের কথা, সুর এবং আবেগ তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অসংখ্য গান গাওয়ার চেয়ে কম হলেও ভাল গান গাওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দেন তিনি।
এআইয়ের তৈরি গান নিয়ে আপত্তি
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে গান তৈরির প্রবণতা বাড়ছে। আকৃতির কাছেও এআই-নির্মিত গানে কণ্ঠ দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। তবে গান শুনেই সেটি এআই দিয়ে তৈরি কি না, তা বুঝতে পারেন বলে দাবি তাঁর। আকৃতি বলেন, মানুষের তৈরি গানের মধ্যে যে আবেগ থাকে, যন্ত্রের মাধ্যমে তৈরি সঙ্গীতে তা থাকে না। তাই গান শুনলেই তাঁর কাছে বিষয়টি ধরা পড়ে যায়। তাঁর মতে, গানের অর্থ ও সুর যদি মানুষের মন ছুঁতে না পারে, শুধুমাত্র প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি হওয়া গান তাঁকে আকর্ষণ করে না। আসন্ন বাংলা ছবি ‘এরাও মানুষ’-এর জন্য সঙ্গীত পরিচালক বালাসাই লাহিড়ীর সুরে গান গেয়েছেন আকৃতি। গানটি তাঁর ভাল লেগেছে এবং শ্রোতাদেরও স্পর্শ করবে বলে মনে করেন তিনি।

প্লেব্যাকের পাশাপাশি নিজের গান
প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করলেও নিজেকে সেই পরিচয়ের মধ্যে আটকে রাখতে চান না আকৃতি। তাঁর মতে, সঙ্গীত সৃষ্টি করলেই একজন শিল্পী হিসেবে দীর্ঘস্থায়ী পরিচয় তৈরি হয়। এই প্রসঙ্গে অরিজিৎ সিংহের প্লেব্যাক থেকে সরে এসে নিজের মতো করে সঙ্গীতচর্চার সিদ্ধান্তের প্রশংসাও করেছেন তিনি। আকৃতির বক্তব্য, শুধু কত হাজার গান গাইলেন, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং কতগুলি ভাল গান মানুষের মনে জায়গা করে নিল, সেটিই আসল। তাই চলচ্চিত্রের গানের পাশাপাশি নিজের গানও তৈরি করেন তিনি। তাঁর কাছে এটি আত্মতৃপ্তি ও আত্মার শান্তিরও একটি মাধ্যম।
‘পাগলু’ থেকেই বাংলা ছবির সফর
বাংলা ছবিতে আকৃতির যাত্রার নেপথ্যে রয়েছে দুর্গাপুজোর একটি অনুষ্ঠান। মুম্বইয়ের একটি পুজোমণ্ডপে তাঁর গান শুনেছিলেন সঙ্গীত পরিচালক জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের স্ত্রী চন্দ্রাণী। তাঁর পরামর্শেই জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে আকৃতির যোগাযোগ হয়। এরপর ‘পাগলু’ ছবিতে গান গাওয়ার সুযোগ পান তিনি। সেখান থেকেই বাংলা ছবিতে একের পর এক গান গাওয়ার পথ খুলে যায়। ‘প্রেম কি বুঝিনি’, ‘মন বিবাগী’, ‘ওরে মনওয়া রে’, ‘তুই আমার হিরো’-সহ একাধিক বাংলা ছবির গানে তাঁর কণ্ঠ শ্রোতাদের কাছে পরিচিত হয়েছে। গায়িকার কথায়, বাংলার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অবশ্য আরও পুরনো। গুরু ব্যোমকেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গজল, ভজন, ধ্রুপদ, ধামার, খেয়াল, রবীন্দ্রসঙ্গীত ও নজরুলগীতির তালিম নিয়েছেন তিনি। বাংলা ভাষা না বুঝলেও গানের অর্থ ও অনুভূতি তাঁর গুরু বুঝিয়ে দিতেন। ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’ এবং ‘বড় আশা করে এসেছি গো’ তাঁর শেখা প্রথম রবীন্দ্রসঙ্গীতগুলির মধ্যে রয়েছে।

ক্ষণিকের জনপ্রিয়তার চেয়ে ধারাবাহিকতায় বিশ্বাসী
বর্তমান সময়ে রিল বা সামাজিক মাধ্যমে গান দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে শুধুমাত্র রিলের জন্য গান তৈরি করার পক্ষে নন আকৃতি। সময়ের সঙ্গে শ্রোতার ধৈর্য বদলেছে বলে তিনি মনে করেন। তাই দীর্ঘ গান তৈরির ক্ষেত্রে সচেতন হওয়া প্রয়োজন, আবার শুধু কয়েক সেকেন্ডের জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখেও গান তৈরি করা উচিত নয়। তাঁর মতে, এক বার জনপ্রিয় হওয়া সহজ হতে পারে, কিন্তু সেই জনপ্রিয়তা ধরে রাখা কঠিন। অসাধারণ গান ও ধারাবাহিক ভাল কাজই একজন শিল্পীকে দীর্ঘদিন মানুষের মনে বাঁচিয়ে রাখে।

হিন্দি ছবিতে ‘স্যাটারডে’, ‘খুদায়া খৈর’, ‘ইসকী উসকী’-র মতো গান গাইলেও বাংলা ইন্ডাস্ট্রিকে নিজের খুব কাছের মনে করেন আকৃতি। জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সুরে তাঁর অধিকাংশ বাংলা গান তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে অনুপম রায়ের সুরেও গান গাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। অনুপমের সুরে আগে একটি গান গাইলেও ছবিটি মুক্তি পায়নি। কলকাতার খাবারের প্রতিও তাঁর বিশেষ ভালবাসা রয়েছে। বিরিয়ানি, বাসন্তী পোলাও, ভোগের খিচুড়ি, শুক্তো, আলু পোস্ত, মোচার ঘণ্ট, মাছের ঝোল এবং চিংড়ি মালাইকারি তাঁর পছন্দের তালিকায় রয়েছে। কলকাতায় এলেই বন্ধুরা তাঁকে বাঙালি রান্না করে খাওয়ান বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আকৃতির দুই বোন প্রকৃতি ও সুকৃতি কক্কড়ও সঙ্গীতশিল্পী। তিন বোনের মধ্যে প্রতিযোগিতা নয়, বরং পারস্পরিক উৎসাহ ও সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন আকৃতি। কারও গান ভাল না লাগলে তাঁরা একে অপরকে সেটিও স্পষ্ট করে জানান। পরিবারতন্ত্র নিয়েও নিজের মত জানিয়েছেন গায়িকা। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ের শ্রোতারা যথেষ্ট সচেতন। কে পরিবারতন্ত্রের সুবিধায় সুযোগ পাচ্ছেন এবং কে নিজের প্রতিভায় জায়গা তৈরি করছেন, তা বুঝতে শ্রোতাদের বেশি সময় লাগে না।
২০০৪ সালে ছবিতে গান গাওয়ার মাধ্যমে পথচলা শুরু। প্রায় দুই দশকের সঙ্গীতজীবনে বহু ভাষায় গান গেয়েছেন, নিজের গান তৈরি করেছেন এবং বিচারকের ভূমিকাতেও থেকেছেন আকৃতি। দুই দশক আগের নিজের সঙ্গে আজ দেখা হলে তাই তাঁর পরামর্শ একটাই—অতিরিক্ত চিন্তা বা চাপ নয়, নিষ্ঠার সঙ্গে গান গেয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তাঁর বিশ্বাস, সামনে ভাল সময়ই অপেক্ষা করছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.