ছুটির দিনে অজান্তেই কিডনির ক্ষতি করছেন? বদলে ফেলুন এই ৬ অভ্যাস

উইকএন্ড মানেই ঘোরাঘুরি, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, বাইরে খাওয়াদাওয়া কিংবা দীর্ঘক্ষণ সিনেমা-গেমে ডুবে থাকা। ব্যস্ততার ফাঁকে শরীরের কিছু প্রয়োজনীয় সংকেত আমরা উপেক্ষা করে ফেলি। অথচ এই ছোট ছোট অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে কিডনির উপর চাপ বাড়াতে পারে। বিশেষ করে জল কম খাওয়া, অতিরিক্ত নুন খাওয়া বা অপ্রয়োজনে পেনকিলার নেওয়ার মতো অভ্যাস নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

১. পর্যাপ্ত জল না খাওয়া
উইকএন্ডে বাইরে বেরিয়ে অনেকেই জল খাওয়ার কথা ভুলে যান। তার সঙ্গে অ্যালকোহল বা অতিরিক্ত ক্যাফিন যোগ হলে শরীরে জলের ঘাটতি আরও বাড়তে পারে। ডিহাইড্রেশনের ফলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায় এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে কিডনির কার্যক্ষমতাতেও প্রভাব পড়তে পারে।
প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা মাথা ঘোরা জলের ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে। তাই বাইরে বেরোলেও নিয়মিত জল পান করুন।

২. দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখা
লং ড্রাইভ, সিনেমা, শপিং কিংবা দীর্ঘক্ষণ গেম খেলার সময় টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকেই উপেক্ষা করেন। এক-আধবার এমন হলে সাধারণত বড় সমস্যা হয় না। কিন্তু নিয়মিত দীর্ঘ সময় প্রস্রাব আটকে রাখার অভ্যাস মূত্রথলির স্বাভাবিক কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
তাই বাইরে বেরোনোর আগে কাছাকাছি টয়লেটের ব্যবস্থা সম্পর্কে জেনে রাখুন। প্রস্রাবের চাপ এলে অযথা তা আটকে রাখবেন না।

৩. সপ্তাহান্তে অতিরিক্ত নুন খাওয়া
ছুটির দিনে পিৎজা, চিপস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, প্যাকেটজাত স্ন্যাকসের মতো খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এসব খাবারে সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। অতিরিক্ত সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়াতে পারে এবং শরীরের জল-ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে কিডনিকে বেশি কাজ করতে হয়।
দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ থাকলে ক্রনিক কিডনি ডিজিজের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই প্যাকেটজাত খাবার খাওয়ার আগে লেবেলে সোডিয়ামের পরিমাণ দেখে নেওয়া ভালো।

৪. ব্যথা হলেই পেনকিলার খাওয়া
জিম, খেলাধুলা, ট্রেকিং বা দীর্ঘক্ষণ হাঁটার পর শরীরে ব্যথা হলে অনেকে নিজের মতো করে পেনকিলার খেয়ে নেন। কিছু ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে। শরীরে জলের ঘাটতি থাকলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হঠাৎ কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
তাই প্রয়োজন ছাড়া নিয়মিত পেনকিলার খাবেন না। কিডনির সমস্যা, ডিহাইড্রেশন বা অন্য কোনও শারীরিক অসুস্থতা থাকলে ওষুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৫. ছুটির দিনে ঘুমের সময় পুরোপুরি বদলে ফেলা
সপ্তাহের অন্য দিন নিয়ম মেনে ঘুমালেও উইকএন্ডে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা এবং দুপুর পর্যন্ত ঘুমানোর অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। এতে শরীরের স্বাভাবিক ঘড়ির ছন্দ বিঘ্নিত হতে পারে, যাকে ‘সোশাল জেট ল্যাগ’ বলা হয়।
দীর্ঘদিন ঘুমের অনিয়ম থাকলে স্থূলতা, ডায়াবিটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এগুলিও দীর্ঘমেয়াদে কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই ছুটির দিনেও ঘুম ও ওঠার সময় খুব বেশি পরিবর্তন না করাই ভালো।

৬. প্রতি সপ্তাহান্তে জাঙ্ক ফুডের উপর নির্ভর করা
বার্গার, পিৎজা, ফ্রায়েড চিকেন, চিপস কিংবা মিষ্টি পানীয় যদি প্রতি সপ্তাহের নিয়মিত খাবারে পরিণত হয়, তাহলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি, নুন ও অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট ঢুকতে পারে।
দীর্ঘদিন এমন খাদ্যাভ্যাসের ফলে ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবিটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এই সমস্যাগুলিই আবার কিডনি রোগের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। তাই বাইরে খেলেও দৈনন্দিন খাবারে শাকসবজি, ফল এবং স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের মতো পুষ্টিকর খাবার রাখুন।

কিডনিকে সুস্থ রাখতে উইকএন্ডেও সতর্ক থাকুন
কিডনি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এবং প্রতিদিনই নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে। তাই শুধু কর্মদিবসে নয়, ছুটির দিনেও তার যত্ন নেওয়া জরুরি। পর্যাপ্ত জল পান করা, অতিরিক্ত নুন ও অ্যালকোহল কমানো, অপ্রয়োজনে পেনকিলার না খাওয়া, প্রস্রাব চেপে না রাখা এবং ঘুমের সময় নিয়মিত রাখার মতো অভ্যাস কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

কালো কিশমিশ খেলে কি ত্বকের তারুণ্য বজায় থাকে? জেনে নিন আরও উপকার

ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনি রোগের ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোও জরুরি। ছোট ছোট অভ্যাস বদলেই কিডনির উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক