Lifestyle: মহাকাশচারীদের ঘুমের কৌশল কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর? ‘জিরো গ্র্যাভিটি’ ভঙ্গির উপকারিতা ও সীমাবদ্ধতা

ঘুম মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কিন্তু শুধু কত ঘণ্টা ঘুমানো হচ্ছে, তা-ই নয়; কীভাবে ঘুমানো হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে ‘জিরো গ্র্যাভিটি স্লিপিং পজিশন’ নামে একটি বিশেষ ঘুমের ভঙ্গি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। মহাকাশচারীদের শরীরের স্বাভাবিক আরামদায়ক অবস্থান থেকে অনুপ্রাণিত এই পদ্ধতি অনেকের কাছে স্বাস্থ্যকর ঘুমের নতুন বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মহাকাশ অভিযানের সময় নভোচারীরা এমন এক পরিবেশে থাকেন, যেখানে পৃথিবীর মতো মাধ্যাকর্ষণের চাপ কাজ করে না। গবেষণায় দেখা গেছে, সেই অবস্থায় শরীর স্বাভাবিকভাবেই একটি আরামদায়ক ভঙ্গি গ্রহণ করে, যাকে ‘নিউট্রাল বডি পজিশন’ বলা হয়। এই ধারণার ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে জিরো গ্র্যাভিটি ঘুমের কৌশল।

এই ভঙ্গিতে সম্পূর্ণ সমতল হয়ে শোয়া হয় না। বরং শরীরের উপরের অংশ এবং পা কিছুটা উঁচু করে রাখা হয়। কোমর ও উরুর মাঝখানে একটি আরামদায়ক কোণ তৈরি হয় এবং হাঁটু সামান্য ভাঁজ করা থাকে। এর ফলে মেরুদণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না এবং শরীরের বিভিন্ন পেশি শিথিল থাকার সুযোগ পায়।

Lifestyle: মহাকাশচারীদের ঘুমের কৌশল কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর? ‘জিরো গ্র্যাভিটি’ ভঙ্গির উপকারিতা ও সীমাবদ্ধতা
Lifestyle: মহাকাশচারীদের ঘুমের কৌশল কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর? ‘জিরো গ্র্যাভিটি’ ভঙ্গির উপকারিতা ও সীমাবদ্ধতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে কোমরের ব্যথা বা পিঠের অস্বস্তিতে ভোগেন, তাঁদের জন্য এই ভঙ্গি কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে। শরীরের ওজন তুলনামূলকভাবে সমানভাবে বণ্টিত হওয়ায় মেরুদণ্ডের নিচের অংশে চাপ কম পড়ে। একই সঙ্গে পা উঁচু অবস্থানে থাকায় রক্তসঞ্চালনও উন্নত হতে পারে। ফলে পায়ে ফোলাভাব বা ভারী লাগার মতো সমস্যাও কিছু ক্ষেত্রে কমে আসতে পারে।

অন্যদিকে, অনেক মানুষের রাতের খাবারের পর অম্বল বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা দেখা দেয়। জিরো গ্র্যাভিটি ভঙ্গিতে মাথা ও বুক সামান্য উঁচুতে থাকায় পাকস্থলীর অ্যাসিড উপরের দিকে ওঠার প্রবণতা কমতে পারে। এতে বুকজ্বালা বা অস্বস্তির সম্ভাবনাও হ্রাস পায়।

শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষেত্রেও এই অবস্থানের কিছু সুবিধা রয়েছে বলে মনে করা হয়। শরীরের উপরের অংশ উঁচু থাকলে শ্বাসনালি তুলনামূলকভাবে খোলা থাকে, যা নাক ডাকার প্রবণতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। যাঁদের ঘুমের সময় হালকা শ্বাসকষ্ট বা শ্বাসপ্রশ্বাসে অস্বস্তি হয়, তাঁদের ক্ষেত্রেও এটি উপকারী হতে পারে।

অনেকেই এই ধরনের ঘুমের অভিজ্ঞতা পাওয়ার জন্য বিশেষ ধরনের অ্যাডজাস্টেবল বেড ব্যবহার করেন। তবে সাধারণ বিছানাতেও কিছু বালিশের সাহায্যে একই ধরনের অবস্থান তৈরি করা সম্ভব। পিঠের নিচে একটি শক্ত বালিশ এবং হাঁটুর নিচে কয়েকটি বালিশ রাখলে শরীরকে প্রয়োজনীয় কোণে রাখা যায়।

তবে এই পদ্ধতির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে পাশ ফিরে বা উপুড় হয়ে ঘুমানোর অভ্যাসে অভ্যস্ত, তাঁদের জন্য সারারাত চিত হয়ে থাকা কঠিন হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ঘুমের মধ্যে বারবার অবস্থান পরিবর্তন করার ফলে বালিশ সরে যায় এবং কাঙ্ক্ষিত ভঙ্গি বজায় রাখা সম্ভব হয় না। ফলে ঘুমের মানও ব্যাহত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, কোনও নির্দিষ্ট ঘুমের ভঙ্গি সবার জন্য সমান কার্যকর নয়। ঘুম থেকে ওঠার পর যদি শরীরে ব্যথা, আড়ষ্টতা বা ক্লান্তি অনুভূত না হয় এবং সারা দিন সতেজ থাকা যায়, তবে সেটিই আপনার জন্য উপযুক্ত ঘুমের পদ্ধতি হতে পারে। তাই নতুন কোনও কৌশল অনুসরণ করার আগে নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বোঝা জরুরি।

সর্বোপরি, জিরো গ্র্যাভিটি ঘুমের ভঙ্গি কিছু মানুষের জন্য আরামদায়ক ও উপকারী হতে পারে। তবে সুস্থ ঘুমের আসল চাবিকাঠি হলো নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী আরামদায়ক অবস্থান নির্বাচন করা।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক