স্বামীর আকস্মিক মৃত্যু যে কোনও মানুষের জীবনে গভীর শূন্যতা তৈরি করে। সেই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই নিজেকে সামলে আবার কাজের ময়দানে ফিরলেন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। ব্যক্তিগত জীবনের চরম দুঃসময়ের মধ্যেও তাঁর এই পেশাদারিত্ব এবং মানসিক দৃঢ়তা ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে নেটদুনিয়ার।
সম্প্রতি তিনি যোগ দেন ‘তারকাটা’ নামের একটি ওয়েব সিরিজের শুটিংয়ে, যার প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন বিক্রম চট্টোপাধ্যায় এবং পরিচালনায় শমীক রায়চৌধুরী। এই সিরিজের শুটিং চলাকালীনই গত ২৯ মার্চ তাঁর স্বামী রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পান তিনি। সেই সময় মাঝপথে কাজ ফেলে ছুটে যেতে হয়েছিল তাঁকে।
তবে অসম্পূর্ণ কিছু দৃশ্যের শুটিং বাকি থাকায়, নির্ধারিত সময়ের আগেই ফের শুটিং ফ্লোরে ফিরতে হয় অভিনেত্রীকে। জানা গেছে, এখনও দু’দিনের কাজ বাকি রয়েছে। এই অবস্থায় শুটিংয়ে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে সহজ ছিল না।
এদিকে শুটিং ফ্লোর থেকে প্রকাশ্যে এসেছে একটি ভিডিও, যেখানে দেখা যাচ্ছে, হাতে স্ক্রিপ্ট নিয়ে চুপচাপ বসে রয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। তাঁর চোখেমুখে স্পষ্ট ক্লান্তি আর বিষণ্ণতার ছাপ। শট দেওয়ার আগে নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করার চেষ্টা করছেন তিনি—এই দৃশ্যই নাড়িয়ে দিয়েছে অনুরাগীদের মন।
এই ভিডিও সামনে আসতেই নেটমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একাংশ যেখানে তাঁর ব্যক্তিগত শোকপ্রকাশের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তোলে, সেখানে বৃহত্তর অংশ তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে সমর্থন জানায়। অনেকেই মনে করেন, কাজের মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রাখা এই কঠিন সময় সামলানোর অন্যতম উপায় হতে পারে।
নেটিজেনদের কেউ লিখেছেন, “সহজের জন্য এই লড়াই তোমাকেই জিততে হবে”, আবার কেউ বলেছেন, “কাজে মন দিলে মানসিকভাবে একটু হলেও শক্তি পাওয়া যায়।” অনেকে তাঁর ও তাঁর সন্তানের জন্য প্রার্থনাও করেছেন।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনে শুধুমাত্র নিজের শোক সামলানোই নয়, বরং স্বামীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার জন্যও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। কলকাতার বাইরে অন্য রাজ্যেও যেতে হয়েছে তাঁকে তদন্তের সূত্র খুঁজতে। একইসঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মীদের সঙ্গে ন্যায়বিচারের দাবিতেও সরব হয়েছেন তিনি।
সবচেয়ে বড় বিষয়, এই কঠিন সময়ে তিনি যেমন স্বামীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তেমনই নিজের সন্তান সহজকে আগলে রেখেছেন। মাত্র তেরো বছর বয়সে বাবাকে হারানোর যন্ত্রণা সামলানো যে কতটা কঠিন, তা সহজেই অনুমেয়।
তবুও ব্যক্তিগত কষ্টকে সামনে না এনে, পেশাদারিত্ব বজায় রেখে নিজের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন প্রিয়াঙ্কা। তাই তাঁর এই লড়াকু মনোভাবকে সম্মান জানিয়ে, তাঁকে কুর্নিশ জানিয়েছে নেটদুনিয়ার বড় অংশ।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হল—মনের ভেতর যতই ঝড় চলুক না কেন, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে মানুষ নিজের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ায় না।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.