হিন্দি টেলিভিশন জগতের এক সময়ের জনপ্রিয় দম্পতি Delnaaz Irani এবং Rajeev Paul-এর দাম্পত্য ভাঙন বহুদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দীর্ঘ ১৪ বছরের সম্পর্কের পর তাঁদের বিচ্ছেদ হয়েছিল, কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের নেপথ্যের কারণ নিয়ে এতদিন খুব বেশি খোলাখুলি কথা বলেননি অভিনেত্রী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই নীরবতা ভাঙলেন তিনি।
ডেলনাজ় জানান, তাঁদের সম্পর্কের শুরুটা বেশ সুন্দর হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সমীকরণ বদলে যেতে থাকে। তাঁর কথায়, সম্পর্কের প্রতি সমান গুরুত্ব না দেওয়া এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি করে। তিনি অনুভব করেছিলেন, স্বামী হিসেবে রাজীব অনেক সময়ই সম্পর্কটিকে স্বতঃসিদ্ধ বলে ধরে নিতেন—যেন স্ত্রী সবসময় থাকবেনই, আলাদা করে যত্ন বা মূল্য দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
একটি মধ্যবিত্ত পারসি পরিবারে বড় হয়ে ওঠা ডেলনাজ়ের কাছে বিবাহবিচ্ছেদ ছিল একেবারেই অচেনা ধারণা। তাঁর পরিবারে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের উদাহরণই ছিল বেশি। ফলে দাম্পত্য ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া তাঁর কাছে সহজ ছিল না। তবুও মানসিক শান্তির খোঁজেই শেষ পর্যন্ত কঠিন সেই সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নগুলির একটি ছিল—বিচ্ছেদের সময় তিনি কি খোরপোশ নিয়েছিলেন? এই বিষয়ে স্পষ্ট জবাব দিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, তিনি রাজীবের কাছ থেকে এক টাকাও নেননি। বরং সেই সময়টা তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন পর্বগুলির একটি ছিল। বিচ্ছেদের পরপরই ২০১১ সালে তাঁর বাবার মৃত্যু তাঁকে আরও ভেঙে দেয়।
ডেলনাজ় আরও বলেন, বিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়াও ছিল অত্যন্ত ক্লান্তিকর। কারণ, একজন বিচ্ছেদ চাইলেও অন্যজন তাতে সম্মত ছিলেন না। তবুও নিজের মানসিক সুস্থতা এবং শান্তির জন্য তিনি পিছিয়ে যাননি। জীবনের সেই ভাঙা সময় কাটিয়ে আবার নতুন করে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯৯৩ সালে প্রথম দেখা হয়েছিল এই দম্পতির। পাঁচ বছর পর ১৯৯৮ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০১০ সালে বিচ্ছেদের আবেদন করেন এবং ২০১২ সালে আইনি বিচ্ছেদ সম্পূর্ণ হয়। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরও তাঁরা একসঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো Bigg Boss 6-এ, যা আবারও তাঁদের সম্পর্ককে আলোচনায় এনে দেয়।
ডেলনাজ়ের এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে, দাম্পত্যে শুধু একসঙ্গে থাকা নয়, পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়াই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার মূল চাবিকাঠি।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.