গরমের দিনে অফিসের ঠান্ডা পরিবেশ অনেকের কাছেই স্বস্তির জায়গা। বাইরে প্রচণ্ড রোদ আর ঘামের পর এসি ঘরে ঢুকলেই শরীর ও মন জুড়িয়ে যায়। কিন্তু দিনের পর দিন টানা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কাজ করার প্রভাব ধীরে ধীরে শরীরের উপর পড়তে শুরু করে। বিশেষ করে ত্বক ও চুল সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে।
কেন ক্ষতি হয়?
অফিসের সেন্ট্রাল এসি বাতাসের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। ফলে ঘরের পরিবেশ অনেক বেশি শুষ্ক হয়ে ওঠে। একই বাতাস বারবার ঘুরে আসায় ত্বক স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারাতে থাকে। দীর্ঘসময় এই পরিবেশে থাকলে ত্বকে টান ধরা, ঠোঁট ফেটে যাওয়া কিংবা শুষ্ক ভাব দেখা দেওয়া খুব সাধারণ সমস্যা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত শুষ্ক পরিবেশ ত্বকের কোলাজেন ও ইলাস্টিনের উপরও প্রভাব ফেলে। এতে ত্বক দ্রুত রুক্ষ হয়ে যায় এবং বয়সের ছাপও আগে দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত শুষ্ক পরিবেশ ত্বকের কোলাজেন ও ইলাস্টিনের উপরও প্রভাব ফেলে। এতে ত্বক দ্রুত রুক্ষ হয়ে যায় এবং বয়সের ছাপও আগে দেখা দিতে পারে।
চুলেও পড়ে প্রভাব
শুধু ত্বক নয়, এসির ঠান্ডা বাতাস চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতাও কমিয়ে দেয়। এতে চুল নিস্তেজ ও রুক্ষ হয়ে পড়ে। অনেকের ক্ষেত্রে চুল জট বেঁধে যাওয়া, ডগা ফেটে যাওয়া কিংবা অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যাও বাড়তে পারে।
যাঁদের আগে থেকেই ত্বকের সমস্যা যেমন এগজিমা বা সোরিয়াসিস রয়েছে, তাঁদের জন্য দীর্ঘক্ষণ এসি পরিবেশ আরও অস্বস্তিকর হতে পারে।
কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?
পর্যাপ্ত জল পান করুন
দিনভর শরীরকে হাইড্রেট রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত পর্যাপ্ত জল পান করলে শরীরের ভেতরের আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং ত্বকও তুলনামূলক সতেজ থাকে।
ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন
অফিসে কাজের ফাঁকে কয়েকবার ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বকের শুষ্কতা অনেকটাই কমে। চাইলে ফেস মিস্টও ব্যবহার করতে পারেন।
চুলের বাড়তি যত্ন নিন
অফিসে যাওয়ার আগে হালকা সিরাম ব্যবহার করলে চুলের আর্দ্রতা বজায় থাকে। দীর্ঘসময় খোলা চুল না রেখে আলতো করে বেঁধে রাখাই ভালো।
হিউমিডিফায়ার বা ইনডোর গাছ রাখুন
সম্ভব হলে ডেস্কের কাছে ছোট হিউমিডিফায়ার রাখতে পারেন। এছাড়া মানিপ্ল্যান্ট বা স্ন্যাক প্ল্যান্টের মতো ইনডোর গাছও ঘরের পরিবেশ কিছুটা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
মাঝে মাঝে বাইরে বেরোন
টানা এসির মধ্যে না থেকে কিছুক্ষণ স্বাভাবিক পরিবেশে হাঁটাহাঁটি করলে শরীরও স্বস্তি পায়।
রাতে বাড়তি পরিচর্যা
বাড়ি ফিরে স্নানের পর ত্বকে ভালোভাবে ময়েশ্চারাইজার লাগান। রাতে চুলে হালকা তেল মালিশ করলে শুষ্কতা কমে এবং চুলের উজ্জ্বলতা ফিরতে সাহায্য করে।
সচেতন থাকলেই মিলবে সুরক্ষা
অফিসের এসি পরিবেশ এড়িয়ে চলা প্রায় অসম্ভব। তবে দৈনন্দিন কিছু ছোট অভ্যাস বদলালেই ত্বক ও চুলকে অনেকটাই সুস্থ রাখা সম্ভব। নিয়মিত যত্ন নিলে ঠান্ডা অফিসেও সতেজতা বজায় থাকবে সহজেই।