গরম পড়তেই বাড়ছে মশার উপদ্রব। সন্ধ্যা নামলেই ঘরের কোণ থেকে শুরু করে রান্নাঘর, বাথরুম কিংবা শোবার ঘর—সব জায়গাতেই মশার উৎপাত অসহনীয় হয়ে ওঠে। অনেকেই মশা তাড়াতে কয়েল, ধূপ বা রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার করেন। তবে এসব উপকরণ থেকে নির্গত ধোঁয়া দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই ধোঁয়া বেশ ক্ষতিকর। তাই এখন অনেকেই ঝুঁকছেন নিরাপদ ও প্রাকৃতিক বিকল্পের দিকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মশা নিয়ন্ত্রণের প্রথম ধাপ হল বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা। কোথাও জল জমে থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করা উচিত। কারণ জমে থাকা জলেই মশা দ্রুত বংশবিস্তার করে। নিয়মিত নর্দমা, বাথরুমের কোণা ও অন্ধকার জায়গা পরিষ্কার রাখলে মশার সংখ্যা অনেকটাই কমে যায়।
রসুনের গন্ধে দূরে থাকবে মশা
রসুনের তীব্র গন্ধ মশা সহ্য করতে পারে না। কয়েক কোয়া রসুন থেঁতো করে জলে ফুটিয়ে নিন। সেই জল ঠান্ডা হলে স্প্রে বোতলে ভরে ঘরের কোণায় ছিটিয়ে দিন। রান্নাঘর বা বাথরুমে এই মিশ্রণ ব্যবহার করলে মশা ও মাছির উপদ্রব কমে।
পিপারমিন্ট অয়েলের ব্যবহার
পিপারমিন্ট অয়েলের গন্ধও মশা দূরে রাখতে সাহায্য করে। এক কাপ জলে কয়েক ফোঁটা অয়েল মিশিয়ে ঘরের জানালা, পর্দা বা দরজার কাছে স্প্রে করলে মশা সহজে ঘরে ঢোকে না। পাশাপাশি ঘরেও সতেজ সুবাস বজায় থাকে।
লেবু ও লবঙ্গের সহজ টোটকা
লেবু অর্ধেক কেটে তার মধ্যে কয়েকটি লবঙ্গ গুঁজে ঘরের কোণায় রেখে দিলে মশা অনেকটাই দূরে থাকে। লেবুর গন্ধ ও লবঙ্গের সুগন্ধ একসঙ্গে মশার জন্য অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করে।
টি-ট্রি অয়েলও কার্যকর
টি-ট্রি অয়েলের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ রয়েছে। পাশাপাশি এটি মশা তাড়াতেও সাহায্য করে। জলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা মিশিয়ে স্প্রে করলে ঘর সতেজ থাকে এবং মশার উপদ্রব কমে যায়।
নিমের গন্ধে মশা দূর
নিম পাতা ও নিম তেল বহুদিন ধরেই প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নারকেল তেলের সঙ্গে অল্প নিম তেল মিশিয়ে প্রদীপের মতো ব্যবহার করলে মশা কম আসে। অনেকেই শরীরের খোলা অংশে অল্প নিম তেলও ব্যবহার করেন।
লেবু ও ইউক্যালিপটাস তেলের মিশ্রণ
লেবুর রস ও ইউক্যালিপটাস তেল একসঙ্গে মিশিয়ে স্প্রে করলে দীর্ঘ সময় মশা দূরে থাকে। রাসায়নিক স্প্রের তুলনায় এটি অনেক বেশি নিরাপদ এবং ত্বকের জন্যও তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর।
কর্পূরের সহজ ব্যবহার
একটি পাত্রে জল নিয়ে তাতে কর্পূর ফেলে ঘরের কোণায় রেখে দিলে তার গন্ধে মশা কম আসে। এই পদ্ধতিতে ধোঁয়া তৈরি হয় না, ফলে শ্বাসকষ্টের আশঙ্কাও কম থাকে।
মশারি ব্যবহারের গুরুত্ব
সব ধরনের ঘরোয়া উপায়ের পাশাপাশি রাতে মশারি ব্যবহার করা এখনও সবচেয়ে নিরাপদ অভ্যাস। বিশেষ করে শিশুদের জন্য মশারি অত্যন্ত জরুরি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে এই সতর্কতাগুলি মেনে চললে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও অনেকটাই কমানো সম্ভব।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.