বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রভাব এখন সাধারণ মানুষের রান্নাঘরেও পৌঁছে গিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির কারণে গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এলপিজির উপর নির্ভরশীল পরিবারগুলি সমস্যায় পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প জ্বালানির সন্ধানে সামনে এসেছে এক অভিনব প্রযুক্তি—হাইড্রোজেন স্টোভ।
সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই স্টোভের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, এটি চালাতে এলপিজি বা অন্য কোনও প্রচলিত জ্বালানির প্রয়োজন নেই। বরং খুব সাধারণ উপাদান—জল এবং সামান্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করেই এতে রান্না করা সম্ভব।
কীভাবে কাজ করে এই স্টোভ?
এই বিশেষ স্টোভের ভিতরে একটি ইলেকট্রোলাইজার বসানো থাকে। ব্যবহারকারী স্টোভের নির্দিষ্ট অংশে জল ঢাললে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ দিলে ইলেকট্রোলাইসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জল ভেঙে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনে পরিণত হয়। উৎপন্ন হাইড্রোজেন গ্যাসই পরবর্তীতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
অর্থাৎ, বাইরের কোনও গ্যাস সিলিন্ডারের প্রয়োজন ছাড়াই স্টোভ নিজেই নিজের জ্বালানি তৈরি করে নেয়—যা প্রযুক্তিগত দিক থেকে এক বড় অগ্রগতি।
পরিবেশবান্ধব দিক
বর্তমানে এলপিজি বা অন্যান্য জ্বালানিতে রান্না করলে কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হয়, যা পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ। কিন্তু হাইড্রোজেন স্টোভে রান্নার সময় মূলত জলীয় বাষ্প এবং অক্সিজেন নির্গত হয়। ফলে এটি প্রায় শূন্য দূষণকারী প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কোথায় ব্যবহারযোগ্য?
এই স্টোভ শুধু বাড়ির রান্নাঘরেই নয়, রেস্তরাঁ বা ছোট ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও ব্যবহারযোগ্য। এতে দু’টি বার্নার রয়েছে, ফলে একসঙ্গে একাধিক রান্না করা সম্ভব।
দাম কত?
এই আধুনিক প্রযুক্তির স্টোভের দাম প্রায় দেড় লক্ষ টাকার কাছাকাছি। ফলে আপাতত এটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের নাগালের বাইরে বলেই মনে করছেন অনেকেই। তবে প্রযুক্তির প্রসার ঘটলে ভবিষ্যতে এর দাম কমে আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সংকট ও পরিবেশ দূষণের কথা মাথায় রাখলে হাইড্রোজেন ভিত্তিক প্রযুক্তিই হতে পারে আগামী দিনের প্রধান ভরসা। সেই দিক থেকে এই স্টোভ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা ভবিষ্যতে এলপিজির বিকল্প হিসেবেও জায়গা করে নিতে পারে।
👉 সব মিলিয়ে, জল দিয়েই রান্না—শুনতে অবাক লাগলেও বাস্তবে তা সম্ভব করে দেখাচ্ছে এই নতুন প্রযুক্তি। এখন দেখার, এটি কত দ্রুত সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছাতে পারে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.