Sreelekha Mitra: ‘খারাপ সময়ে লাথি মারেন, তাই প্রার্থনা করুন যেন উঠে না দাঁড়াই’—টলিউডের কটাক্ষের জবাব শ্রীলেখার

Sreelekha Mitra: নিজের বিরুদ্ধে টলিউডের একাংশের মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। শিক্ষা, প্রতিবাদ, রাজনৈতিক অবস্থান থেকে শুরু করে মোদী-কাণ্ড—একাধিক প্রসঙ্গ তুলে দীর্ঘ পোস্টে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি।

দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনার প্রতিবাদে কলকাতায় আয়োজিত মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র (Sreelekha Mitra)। সেই মিছিলের একটি ছবি ঘিরেই পরবর্তীতে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। ছবিতে শ্রীলেখার হাতে থাকা একটি পোস্টারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিকৃত কার্টুন দেখা যায়। এরপরই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে সরব হন বিজেপির নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সমাজের একাংশ। অভিযোগ, শ্রীলেখার বিরুদ্ধে ৩০টিরও বেশি থানায় এফআইআর জমা পড়ে। তাঁর গ্রেফতারের দাবিও ওঠে। এমনকী, অভিনেত্রীর বাড়ির সামনেও বিক্ষোভ দেখাতে পৌঁছন শাসক দলের সমর্থকেরা।

তবে শুধু রাজনৈতিক মহল নয়, টলিউডের একাংশের তারকারাও শ্রীলেখার ওই পোস্টার-ব্যবহারের সমালোচনা করেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, প্রতিবাদের ভাষা যেন শালীনতার সীমা অতিক্রম না করে। অভিনেত্রী রত্না ঘোষাল শ্রীলেখা(Sreelekha Mitra)-র মানসিক অবস্থা নিয়েও মন্তব্য করেন বলে দাবি করা হয়েছে। কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা শঙ্করের মতো অভিনেত্রীরাও প্রকাশ্যে তাঁর সমালোচনা করেন।

এবার সেই সমস্ত মন্তব্যেরই দীর্ঘ জবাব দিলেন শ্রীলেখা।

‘শিক্ষিত হওয়া ভালো, অতিশিক্ষিত হওয়া ভালো নয়’—কটাক্ষের জবাব

নিজের পোস্টে শ্রীলেখা লেখেন, একজন অভিনেত্রী যখন বলেন, ‘শিক্ষিত হওয়া ভালো, অতিশিক্ষিত হওয়া ভালো নয়’, তখন তিনি ধরে নিচ্ছেন যে কিছু ক্ষেত্রে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তুলনায় বেশি শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, বোধ বা চেতনার পরিচয় দিয়েছেন।

শ্রীলেখার কথায়, শিক্ষা শুধুমাত্র ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর মতে, শিক্ষা মানে এক্সপোজার, প্রশ্ন করার ক্ষমতা, মানবিকতা, চেতনা এবং বিবেক। এই জায়গায় নিজের অবস্থান আলাদা বলেই দাবি করেন অভিনেত্রী। তিনি লেখেন, যদি এই অবস্থানই তাঁর ‘অপরাধ’ হয়, তবে সেই দায় তিনি নিতে প্রস্তুত।

‘মাথা খারাপ হয়ে যায়’—রত্না ঘোষালকে পাল্টা জবাব

রত্না ঘোষালের মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে শ্রীলেখা লেখেন, তাঁর ‘মাথা খারাপ হয়ে যায়’ ঠিকই—তবে অন্যায় বা অবিচার দেখলে। বিশেষ করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনায় অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া এবং হতাশায় কেউ কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার বিষয়টি তাঁকে নাড়া দেয় বলে জানান অভিনেত্রী। শ্রীলেখার বক্তব্য, অন্যায় দেখে প্রতিবাদ করাকে যদি ‘মাথা খারাপ’ বলা হয়, তাহলে সেই অভিযোগও তিনি মেনে নিতে রাজি।

‘ক্ষমতার সুবিধার জন্য দল বদলাইনি’

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন শ্রীলেখা। তাঁর দাবি, ক্ষমতার সুবিধা পাওয়ার জন্য তিনি কখনও দল বদলে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেননি। ‘আজ টিএমসি, কাল বিজেপি’—সুবিধা অনুযায়ী রাজনৈতিক অবস্থান বদলের রাজনীতি তিনি করেননি বলেও দাবি করেন অভিনেত্রী। নিজের বিবেক, আত্মসম্মান এবং ‘মেরুদণ্ড’ বিক্রি করেননি—এমন কথাও উঠে এসেছে তাঁর পোস্টে।

‘সময় বদলায়’—শ্রীলেখার বার্তা

পোস্টের শেষদিকে শ্রীলেখা সময়ের পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে লেখেন, সময় কখনও এক জায়গায় থেমে থাকে না। তাঁর খারাপ সময়ে যারা তাঁকে ‘লাথি’ মারছেন, তাঁদের উদ্দেশে কটাক্ষ করে অভিনেত্রী বলেন, তাঁরা যেন প্রার্থনা করেন, তিনি যাতে কোনওদিন উঠে দাঁড়াতে না পারেন। এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে টলিউডের যে সমস্ত তারকা তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন, তাঁদের উদ্দেশে কার্যত কড়া বার্তাই দিয়েছেন শ্রীলেখা।

মোদীর বিকৃত ছবি নিয়ে কী বলেছিলেন শ্রীলেখা?
এর আগে বিতর্কিত ছবিটি নিয়ে নিজের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেছিলেন অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, ছবিটি তোলার সময় ইতিমধ্যেই পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে দিয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে কয়েকজন যুবক তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে আসেন। তাঁদের হাতে থাকা একটি পোস্টার ধরেই তিনি ছবি তোলেন। শ্রীলেখার দাবি, তাড়াহুড়োর মধ্যে পোস্টারে থাকা নরেন্দ্র মোদীর ছবিটি তিনি খেয়াল করেননি। তাঁর আরও বক্তব্য, সেদিন চোখে চশমা ছিল না এবং সানগ্লাস পরে থাকায় পোস্টারটিও ভালোভাবে দেখতে পারেননি। তবে সেই ব্যাখ্যার পরেও বিতর্ক থামেনি। রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি টলিউডের একাংশের সমালোচনার মুখে পড়তে হয় অভিনেত্রীকে। এবার দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে সেই সমালোচনারই জবাব দিলেন শ্রীলেখা মিত্র।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক