রসগোল্লা খেয়েই অবশতা! বিরল স্নায়ুরোগ নিয়ে সতর্কতা চিকিৎসকদের

অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার পর হঠাৎ শরীর অবশ হয়ে যাওয়ার ঘটনা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য শোনাতে পারে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এমন ঘটনা একেবারেই বিরল নয়। সম্প্রতি এক ৩৫ বছর বয়সী যুবকের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, কয়েকটি রসগোল্লা খাওয়ার পর তাঁর হাত-পা অবশ হয়ে যায়। গত ছ’মাসে এমন ঘটনা একাধিকবার ঘটার পর চিকিৎসকের কাছে গেলে ধরা পড়ে একটি বিশেষ রোগ—হাইপোক্যালেমিক পিরিয়ডিক প্যারালাইসিস।

সূচিপত্র

রোগটি কী?

হাইপোক্যালেমিক পিরিয়ডিক প্যারালাইসিস এমন একটি অবস্থা, যেখানে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা হঠাৎ কমে যায়। এর ফলে পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সাময়িক পক্ষাঘাতের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এই সমস্যা সাধারণত হঠাৎ শুরু হয় এবং কিছু সময় পর আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এশীয় পুরুষদের মধ্যে এর প্রবণতা বেশি এবং অনেক সময় এটি থাইরয়েডের অতিরিক্ত কার্যকারিতার (হাইপারথাইরয়েডিজম) সঙ্গে সম্পর্কিত।

রসগোল্লা কেন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে?

রসগোল্লার মতো মিষ্টি খাবারে প্রচুর পরিমাণে চিনি ও কার্বোহাইড্রেট থাকে। একসঙ্গে বেশি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। এর প্রতিক্রিয়ায় শরীরে ইনসুলিন হরমোনের নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়, যা রক্ত থেকে পটাশিয়ামকে কোষের ভিতরে সরিয়ে নেয়। ফলে রক্তে পটাশিয়ামের ঘাটতি তৈরি হয়—যাকে বলা হয় হাইপোক্যালেমিয়া। এই অবস্থাই পেশির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতায় বাধা সৃষ্টি করে এবং অবশতার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

লক্ষণ কীভাবে বুঝবেন?

এই রোগের প্রধান লক্ষণ হল হঠাৎ হাত-পা দুর্বল হয়ে যাওয়া বা অবশ হয়ে পড়া। বিশেষ করে বেশি খাওয়ার পর বা বিশ্রামের সময় এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই অবস্থায় স্পর্শ বা ব্যথা অনুভবের ক্ষমতা সাধারণত ঠিক থাকে। এই বৈশিষ্ট্যটি অন্য স্নায়ুরোগ, যেমন স্ট্রোক, থেকে এটিকে আলাদা করতে সাহায্য করে।

কীভাবে ধরা পড়ে?

রোগ নির্ণয়ের জন্য অসুস্থতার সময় রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা পরীক্ষা করা জরুরি। এই সময়েই সাধারণত মাত্রা কম পাওয়া যায়। পাশাপাশি থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট করে দেখা হয় কোনো হরমোনজনিত সমস্যা রয়েছে কি না। তবে উপসর্গ না থাকাকালীন পরীক্ষা করলে রিপোর্ট স্বাভাবিক আসতে পারে, তাই সঠিক সময়ে পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণ

এই অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে পটাশিয়াম সরবরাহ করা হয়—মুখে বা শিরার মাধ্যমে। গুরুতর ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্রের পর্যবেক্ষণও দরকার হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে তার চিকিৎসা করা, খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা এবং সম্ভাব্য ট্রিগার এড়িয়ে চলা জরুরি।

প্রতিরোধের উপায়

একসঙ্গে অতিরিক্ত মিষ্টি বা কার্বোহাইড্রেট খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা এবং অকারণে বারবার দুর্বলতা অনুভব করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে থাইরয়েড পরীক্ষা করানোও গুরুত্বপূর্ণ।

শেষ কথা
ভরপেট খাওয়ার পর বা শরীরচর্চার পরে হঠাৎ দুর্বলতা বা অবশতা দেখা দিলে তা কখনও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। সাধারণ খাদ্যাভ্যাসের আড়ালে কখনও কখনও লুকিয়ে থাকতে পারে গুরুতর হরমোন বা ইলেক্ট্রোলাইটের সমস্যা। তবে সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করলে এই রোগ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক