প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা (PMGKAY) দেশের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চালু হওয়া কেন্দ্রীয় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। কোভিড-১৯ মহামারীর সময় সাধারণ মানুষের খাদ্যসংকট দূর করতে ২০২০ সালের মার্চ মাসে এই প্রকল্পের সূচনা করা হয়। বর্তমানে এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং কোটি কোটি মানুষ এর সুবিধা পাচ্ছেন।
মাসে বিনামূল্যে খাদ্যশস্য বিতরণ
এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য রেশন কার্ডধারীরা বিনামূল্যে খাদ্যশস্য পেয়ে থাকেন। বিশেষ করে অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (AAY)-এর অন্তর্ভুক্ত পরিবারগুলিকে প্রতি মাসে ৩৫ কেজি পর্যন্ত চাল ও গম সরবরাহ করা হয়। এর ফলে দরিদ্র পরিবারগুলির খাদ্য ব্যয়ের চাপ অনেকটাই কমে আসে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহ করা সহজ হয়।
অন্যদিকে, অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পরিবার (Priority Household বা PHH) শ্রেণিভুক্ত উপভোক্তারা পরিবারপ্রতি নয়, বরং সদস্যপিছু প্রতি মাসে ৫ কেজি খাদ্যশস্য পেয়ে থাকেন। জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন (NFSA)-এর অধীনেই এই সুবিধা প্রদান করা হয়।
কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পান?
প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার মূল লক্ষ্য সমাজের সবচেয়ে দুর্বল ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন—
– ভূমিহীন কৃষি শ্রমিক
– প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক
– গ্রামীণ কারিগর
– দিনমজুর
– বস্তিবাসী
– নিম্ন আয়ের গ্রামীণ পরিবার
এই শ্রেণির মানুষদের নিয়মিত খাদ্য সহায়তা দিয়ে তাদের ন্যূনতম খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কতজন উপকৃত হচ্ছেন?
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৮১ কোটিরও বেশি মানুষ এই প্রকল্পের আওতায় সুবিধা পাচ্ছেন। ফলে খাদ্য সহায়তার পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দরিদ্র জনগোষ্ঠী এর মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছে।
কীভাবে আবেদন করা যাবে?
যোগ্য ব্যক্তিরা নিজেদের রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের মাধ্যমে এই প্রকল্প সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সরকারি পোর্টালের সাহায্যেও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব।
অফলাইনে আবেদন করতে চাইলে নিকটবর্তী খাদ্য ও নাগরিক সরবরাহ দফতর অথবা অনুমোদিত রেশন ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়ে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।
স্বচ্ছতা বাড়াতে প্রযুক্তির ব্যবহার
রেশন বিতরণ ব্যবস্থায় অনিয়ম ও কারচুপি রোধ করতে সরকার বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করেছে। বর্তমানে দেশের অধিকাংশ ন্যায্যমূল্যের দোকানে পয়েন্ট-অফ-সেল (PoS) মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। বায়োমেট্রিক যাচাইকরণের মাধ্যমে উপভোক্তাদের পরিচয় নিশ্চিত করে খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়।
এই ব্যবস্থার ফলে ভুয়ো উপভোক্তা শনাক্ত করা সহজ হয়েছে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে খাদ্যশস্য পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হয়েছে।
উপসংহার
প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিনামূল্যে খাদ্যশস্য বিতরণের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ পরিবার আর্থিক সুরাহা পাচ্ছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থার কারণে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.