রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ইতিহাসে আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায় যোগ হলো। টানা দ্বিতীয়বার আইপিএল শিরোপা জয়ের পর দলের অন্যতম প্রধান মুখ বিরাট কোহলি জানালেন, গত বছরের সাফল্যের পর দলের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল— তারা কি আবারও চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে? সেই প্রশ্নের উত্তর এবার মাঠেই দিয়েছে বেঙ্গালুরু।
শিরোপা জয়ের পর সমাজমাধ্যমে কোহলি জানান, এক বছর আগে দলের ক্রিকেটাররা নিজেদের সামর্থ্য নিয়ে একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন। প্রথমবার সাফল্যের পর সেটিকে ধরে রাখা এবং পুনরাবৃত্তি করা সম্ভব কি না, সেটাই ছিল তাদের ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু। নতুন মরসুম শেষে সেই লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় তিনি বিশেষ সন্তোষ প্রকাশ করেন।
আইপিএলের ইতিহাসে টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঘটনা খুব বেশি দেখা যায়নি। এর আগে চেন্নাই সুপার কিংস এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিল। ২০২৫ ও ২০২৬ সালে পরপর শিরোপা জিতে বেঙ্গালুরুও সেই বিশেষ তালিকায় জায়গা করে নিল।
ফাইনালে কোহলির ব্যাট থেকেই আসে ম্যাচজয়ী ইনিংস। ৪২ বলে অপরাজিত ৭৫ রান করে তিনি দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন। ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কোহলি বলেন, এই মুহূর্ত যেন বহুদিনের স্বপ্নপূরণের মতো। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কল্পনা করেছিলেন যে, একদিন ট্রফি জয়ের মুহূর্তে তাঁর ব্যাট থেকেই আসবে নির্ণায়ক রান। বাস্তবে সেই দৃশ্যের সাক্ষী হতে পেরে তিনি আবেগাপ্লুত।
তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলের শক্তিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন বেঙ্গালুরুর তারকা ক্রিকেটার। তাঁর মতে, বর্তমান দলের গঠন এমন যে, কোনও একজনের উপর নির্ভর করতে হয় না। প্রত্যেকে নিজের দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম। ক্রিকেটের বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে তরুণদের উত্থান সিনিয়রদের সবসময় আরও ভালো পারফরম্যান্সের জন্য তাড়িত করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কোহলি জানান, এবারের অভিযানে দলের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের মাত্রা ছিল অনেক বেশি। আগের বছরের সাফল্যের কারণে অতিরিক্ত চাপ ছিল না। ক্রিকেটাররা বিশ্বাস করতেন যে, নিজেদের পরিকল্পনা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে যে কোনও প্রতিপক্ষকে হারানো সম্ভব। সেই মানসিকতা নিয়েই তারা পুরো প্রতিযোগিতা খেলেছে এবং লিগ পর্বেও ধারাবাহিক সাফল্য পেয়েছে।
যদিও মরসুমের মাঝামাঝি সময়ে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল বেঙ্গালুরুকে। বিরতির পর কয়েকটি ম্যাচে প্রত্যাশামতো ফল না আসায় চাপ তৈরি হয়েছিল। তবে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ জয় দলকে আবার ছন্দে ফিরিয়ে আনে। সেই ম্যাচের পর আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়ে তারা ধারাবাহিকভাবে ভালো ক্রিকেট খেলে লিগের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে বিশেষভাবে সন্তুষ্ট কোহলি। তাঁর মতে, এ বছরের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার মানসিকতা। আগে অনেক সময় মনে হতো, ম্যাচ জেতানোর দায়িত্ব তাঁর কাঁধেই বেশি। কিন্তু বর্তমান দলে এমন বহু ক্রিকেটার রয়েছেন, যারা এককভাবে ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারেন। ফলে মাঠে নামার সময় আলাদা নিশ্চিন্ততা কাজ করে।
তিনি বোলিং বিভাগকেও বিশেষ কৃতিত্ব দেন। জশ হেজ়লউড, ভুবনেশ্বর কুমার এবং ডাফির মতো অভিজ্ঞ বোলারদের উপস্থিতি দলের শক্তি বাড়িয়েছে বলে মত কোহলির। পাশাপাশি অলরাউন্ডার ক্রুণাল পাণ্ডিয়ার ধারাবাহিক অবদান এবং তরুণ রাসিখ দারের উত্থানও তিনি উল্লেখ করেন। ব্যাটিং ও বোলিং— দুই বিভাগেই বিভিন্ন ক্রিকেটার সময়মতো দায়িত্ব পালন করায় দলটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কোহলির মতে, এই বেঙ্গালুরু দল এখন শুধু কয়েকজন তারকার উপর নির্ভরশীল নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ইউনিট হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। সেই কারণেই দলের আত্মবিশ্বাসও আগের তুলনায় অনেক বেশি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এমন একটি সুষম ও শক্তিশালী দলের অংশ হতে পেরে তিনি গর্বিত বলেও জানান।
টানা দুইবার আইপিএল জয়ের মাধ্যমে বেঙ্গালুরু শুধু নতুন ইতিহাসই গড়েনি, বরং প্রমাণ করেছে যে সাফল্য ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন পরিকল্পনা, মানসিক দৃঢ়তা এবং দলগত ঐক্য। কোহলির বক্তব্যেও সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.