দিনের শুরুটা স্বাস্থ্যকর খাবার দিয়ে হলে শরীর যেমন চনমনে থাকে, তেমনই হজমের সমস্যাও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। বিশেষ করে যাঁরা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাঁদের কাছে সকালের জলখাবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই প্রতিদিন একই ধরনের ওটস বা ডালিয়ার খাবার খেতে খেতে একঘেয়েমি অনুভব করেন। তাই এমন কিছু বিকল্প খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে, যা একই সঙ্গে সুস্বাদু, পুষ্টিকর এবং হজমের পক্ষেও উপকারী।
পুষ্টিবিদদের মতে, সকালের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ফাইবার থাকলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে, অযথা ক্ষুধা কম লাগে এবং গ্যাস-অম্বলের ঝুঁকিও কমতে পারে। এমনই কয়েকটি সহজ ও স্বাস্থ্যকর পদ রইল।
সয়া মিল্ক পুডিং

দুধের বিকল্প হিসেবে সয়া দুধ ব্যবহার করে তৈরি এই পুডিং প্রোটিনসমৃদ্ধ একটি খাবার। এতে ওটস বা চালের গুঁড়ো ব্যবহার করলে ফাইবারের পরিমাণও বাড়ে। হালকা গরম সয়া দুধের সঙ্গে ওটস মিশিয়ে ধীরে ধীরে ঘন করে নিতে হবে। পরে তাতে কাঠবাদাম ও আখরোটের কুচি যোগ করা যেতে পারে। স্বাদ বাড়াতে সামান্য মধু ব্যবহার করা যায়, যদিও প্রয়োজন না হলে তা বাদও দেওয়া সম্ভব। ডায়াবিটিসে ভোগা ব্যক্তিরাও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এই ধরনের খাবার বেছে নিতে পারেন।
সুজি-দইয়ের প্যানকেক
সুজি ও দইয়ের সংমিশ্রণে তৈরি এই প্যানকেক হালকা অথচ পুষ্টিকর। সুজির সঙ্গে দই মিশিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিতে হবে যাতে মিশ্রণটি নরম হয়। এরপর পালংশাক, পেঁয়াজ, আদা ও অন্যান্য সবজি কুচি যোগ করা যেতে পারে। একটি ডিম মিশিয়ে ব্যাটার তৈরি করলে প্রোটিনের পরিমাণ আরও বাড়ে। সামান্য জোয়ান ও নুন দিয়ে তৈরি এই প্যানকেক কম তেলে ভেজে দইয়ের রায়তা বা পুদিনা চাটনির সঙ্গে পরিবেশন করা যায়।
ইতালিয়ান স্টাইলের এগ ফ্রিতাতা
ডম ও বিভিন্ন সবজির সমন্বয়ে তৈরি ফ্রিতাতা একটি জনপ্রিয় উচ্চ-প্রোটিন খাবার। এতে কার্বোহাইড্রেট তুলনামূলক কম থাকে, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাওয়া ব্যক্তিদের জন্য এটি উপযোগী হতে পারে। পেঁয়াজ, মাশরুম, পালংশাকের মতো সবজি হালকা রান্না করে তার উপর ফেটানো ডিম ঢেলে দেওয়া হয়। পরে টম্যাটো ও সামান্য চিজ যোগ করে কম আঁচে রান্না করলে তৈরি হয় সুস্বাদু ফ্রিতাতা। এটি পুষ্টিকর এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতেও সাহায্য করে।
কেন জরুরি প্রোটিন ও ফাইবার?
প্রোটিন শরীরের কোষ গঠন ও মেরামতে সাহায্য করে, অন্যদিকে ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা নেয়। তাই দিনের প্রথম খাবারে এই দুই পুষ্টি উপাদানের সঠিক উপস্থিতি শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সকালের জলখাবারে সামান্য পরিকল্পনা করলেই স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু খাবারের মাধ্যমে দিন শুরু করা সম্ভব। নিয়মিত এমন খাবার খেলে শরীর যেমন প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে, তেমনই পেটও থাকবে আরামদায়ক।