সময় যে কত দ্রুত বয়ে যায়, তা যেন আবারও প্রমাণ করল টলিপাড়ার এক পরিচিত ছবি। সাদা লেসের জামা পরা এক গোলুমোলু শিশু, প্রসেনজিতের কোলে—যে ছবি একসময় মন ছুঁয়েছিল দর্শকের, সেই খুদেই আজ ২১ বছরের যুবক। প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায়ের একমাত্র পুত্র তৃষাণজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যাকে টলিপাড়া আদর করে চেনে ‘মিশুক’ নামে, আজ তাঁর জন্মদিন উদযাপন করছেন।
৭ই জানুয়ারি জন্ম মিশুকের। বাবা প্রসেনজিত ও মা অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়ের নয়নের মণি তিনি। জন্মদিন উপলক্ষে ছেলের সঙ্গে কাটানো নানা মুহূর্তের কোলাজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিয়েছেন বুম্বাদা। আবেগঘন সেই পোস্টে তিনি লিখেছেন, সময় সত্যিই এক ঝটকায় কেটে যায়—ছোট্ট সোনা এখন হ্যান্ডসাম পুরুষ। বাবা হিসেবে ছেলেকে নিয়ে গর্বিত তিনি, আর একটাই প্রার্থনা—জীবনে যেন মিশুক সবসময় সুখে ও শান্তিতে থাকে।
ফিল্মি পরিবারের উত্তরাধিকার হলেও মিশুকের বেড়ে ওঠা ছিল অনেকটাই নিজের মতো করে। দাদু, বাবা দু’জনেই ইন্ডাস্ট্রির সুপারস্টার, মা নামী অভিনেত্রী—তবু লাইমলাইট থেকে দূরে থেকেই পড়াশোনা ও নিজের আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। শাহরুখ খানের অন্ধভক্ত মিশুক কয়েক বছর লন্ডনে পড়াশোনা করেছেন। করোনাকালে দেশে ফিরে এসে পরে তামিলনাড়ুর একটি কলেজে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যান।
চেহারা ও উচ্চতায় বাবাকেও অনেক আগেই ছাপিয়ে গিয়েছেন মিশুক। সুদর্শন এই যুবকের একসময় অভিনয়ের জগতে আসার কোনও পরিকল্পনাই ছিল না। বরং তাঁর সমস্ত মনোযোগ ছিল ফুটবলের দিকে। ভালো ফুটবল খেলতেন, এমনকি ক্যাপ্টেন হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে আগ্রহের দিক।
বর্তমানে মিশুক অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। খ্যাতনামা প্রশিক্ষক দামিণী বেণী বসুর কাছে অভিনয়ের তালিম নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি মুম্বই গিয়ে নিয়মিত অভিনয়ের ক্লাসও করছেন। শেক্সপিয়ারের নাটকে অভিনয়, আবার কখনও মোবাইল ফোনে ছোট ছোট ভিডিও বানানো—সব মিলিয়ে নিজেকে নানা ভাবে খুঁজে দেখছেন মিশুক।
গত বছরের শুরুতে গুঞ্জন উঠেছিল, এসভিএফের হাত ধরে নাকি টলিপাড়ায় আত্মপ্রকাশ করবেন তৃষাণজিৎ। যদিও সেই জল্পনা পরে কিছুটা থিতিয়ে যায়। এ বিষয়ে প্রসেনজিত আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ছেলেকে তিনি নিজে লঞ্চ করবেন না। হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বুম্বাদা জানিয়েছিলেন, তৃষাণজিৎ যা-ই করুক, যেন তাতেই সেরা হতে পারে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা ছেলের হাতেই রাখতে চান তিনি।
প্রসেনজিতের কথায়, তিনি নিজে কখনও কারও সাহায্যে তৈরি হননি, নিজের লড়াই নিজেকেই লড়তে হয়েছে। তাই ছেলে যদি সিনেমায় আসে, প্রস্তুতিটুকু করে দেবেন, কিন্তু প্রযোজক হিসেবে পাশে দাঁড়াবেন না। এরপর লড়াইটা মিশুককেই করতে হবে।
২১ বছরে পা দেওয়া তৃষাণজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সামনে এখন খুলে যাচ্ছে বহু সম্ভাবনার দরজা। অভিনয়, খেলা বা অন্য কোনও সৃজনশীল পথে—কোন পথে হাঁটবেন তিনি, তা সময়ই বলবে। তবে টলিপাড়া নিশ্চিতভাবেই তাকিয়ে রয়েছে প্রসেনজিত-পুত্রের আগামী অধ্যায়ের দিকে।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.