দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ বাপি হালদারকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ তাঁর কার্যালয়ে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কৃষ্ণচন্দ্রপুর এলাকায় অবস্থিত সাংসদের অফিস ও দলীয় কার্যালয়ের সামনে বহু মানুষ জড়ো হন। তাঁদের মধ্যে মহিলা ও পুরুষ উভয়েই ছিলেন। বিক্ষোভ চলাকালীন কার্যালয়ের শাটার এবং সাইনবোর্ডের ক্ষতি করা হয় বলে অভিযোগ। পরে কয়েকজন বিক্ষোভকারী অফিসের ভিতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন সামগ্রী বাইরে নিয়ে আসেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণসামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে ওই কার্যালয়ে মজুত রাখা হয়েছিল এবং তা এলাকার প্রকৃত উপভোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি সাহায্যের সামগ্রী জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিবর্তে অফিসে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল। সেই কারণেই ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা নিজেদের অধিকার দাবি করে ওই সামগ্রী নিয়ে গিয়েছেন বলে দাবি করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তবে পুলিশের উপস্থিতিতেও উত্তেজনা কিছু সময় বজায় থাকে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে সাংসদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ নজরদারি বাড়ায়।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার আরও কয়েকজন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এবং জনরোষের ঘটনা সামনে এসেছে। এর আগে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাধিক নেতা ও সাংসদও বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন। ফলে রায়দিঘির এই ঘটনাকে অনেকেই বৃহত্তর রাজনৈতিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে দেখছেন।
তবে বাপি হালদার বা তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের তরফে অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ত্রাণসামগ্রী সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা নিয়েও সরকারি স্তরে কোনও মন্তব্য সামনে আসেনি। ফলে অভিযোগ এবং পাল্টা দাবির মধ্যেই ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরো ঘটনার ভিডিও ও অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.