বাঙালির কাছে সরস্বতী পুজো মানেই বসন্তের ছোঁয়া, বইয়ের গন্ধ আর হৃদয়ের আনাচে-কানাচে লুকোনো প্রেমের উন্মেষ। স্কুল-কলেজের দিনগুলোতে এই পুজো ছিল চোখাচোখির উৎসব—আজও তার রেশ কাটেনি। অনেকের জীবনে এই দিনেই বন্ধুত্ব বদলে যায় প্রেমে, আবার কারও ক্ষেত্রে সাহসের অভাবে রয়ে যায় আফসোস। তবে একটু পরিকল্পনা, সঠিক সাজসজ্জা আর পরিমিত আচরণ—এই তিনে মিললেই পছন্দের নারীর মনে জায়গা করে নেওয়া অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। সরস্বতী পুজোর সকালে কীভাবে নিজেকে সাজাবেন ও কীভাবে আচরণ করবেন, রইল তার বিস্তারিত গাইড।
পাঞ্জাবিই হোক দিনের নায়ক
সরস্বতী পুজোয় বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সাজ মানেই পাঞ্জাবি। শার্ট-প্যান্ট বা জিন্স এড়িয়ে বাসন্তী বা হলুদ রঙের পাঞ্জাবি বেছে নিন। সঙ্গে পায়জামা হলে সাজ সম্পূর্ণ হয়। স্টাইলের জন্য হালকা শাল নিতে পারেন, সানগ্লাস পরলেও খেয়াল রাখবেন যেন পুরো লুকের সঙ্গে মানানসই হয়। জুতোর ক্ষেত্রেও সাবধান—চপ্পল স্টাইলের খোলা জুতোই মানানসই। শীতের অজুহাতে মোজা পরে গোটা সাজ নষ্ট করবেন না।
সুগন্ধি হোক মৃদু ও স্মরণীয়
প্রেমে সুবাসের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অতিরিক্ত উগ্র পারফিউম নয়—হালকা, মিষ্টি ও সতেজ গন্ধ বেছে নিন। মনে রাখবেন, এই সাজ বিয়েবাড়ির জন্য নয়; সরস্বতী পুজোর সরলতা আর কোমলতার সঙ্গেই আপনার সুগন্ধি মানাতে হবে।
আত্মবিশ্বাস থাক, অহংকার নয়
কনফিডেন্স আকর্ষণীয়, কিন্তু বাড়াবাড়ি নয়। শান্ত, পরিণত আচরণ মেয়েদের বেশি টানে। জোর করে ইমপ্রেস করার চেষ্টা না করে চোখের ভাষা আর ভদ্র ব্যবহারে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করুন।
নেশা নয়, নির্মল উপস্থিতি
এই দিনে ধূমপান বা কোনও নেশা এড়িয়ে চলাই ভালো। তামাকের গন্ধ অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর। তবু কেউ ধূমপান করলে মাউথ ফ্রেশনার ব্যবহার করতে ভুলবেন না। এরপর সঠিক মুহূর্তে খোলা মনে নিজের অনুভূতি জানাতে দ্বিধা করবেন না—সততা আর সরলতাই এখানে সবচেয়ে বড় শক্তি।
সব মিলিয়ে, সরস্বতী পুজো শুধু সাজের নয়, মননেরও উৎসব। পোশাক, সুবাস আর আচরণে যদি থাকে পরিমিতি ও আন্তরিকতা, তবে এই বসন্তদিনেই আপনার গল্পটা নতুন মোড় নিতে পারে।