পৃথিবীর জন্ম প্রায় ৪৬০ কোটি বছর আগে। জন্মের পর প্রথম কয়েক কোটি বছর পৃথিবী ছিল আগুনের গোলার মতো উত্তপ্ত। সেই অগ্নিগর্ভ অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে ঠান্ডা হতে পৃথিবীর লেগে যায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি বছর। এরপরই শুরু হয় কঠিন পাথরের স্তর গঠনের প্রক্রিয়া। কিন্তু এই আদিম সময়কাল সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান এতদিন ছিল অত্যন্ত সীমিত। কারণ, সেই সময়কার কোনও নির্ভরযোগ্য ভূতাত্ত্বিক নমুনা বিজ্ঞানীদের হাতে তেমনভাবে আসেনি।
অবশেষে সেই অজানা অধ্যায়ের পর্দা সরানোর পথে বড় সাফল্য পেলেন বিজ্ঞানীরা। কানাডার হাডসন বে-র কাছে নর্দার্ন কিউবেক অঞ্চলের এক দুর্গম ও জনমানবহীন প্রান্তরে তাঁরা এমন এক পাথরের সন্ধান পেয়েছেন, যার বয়স প্রায় ৪১৬ কোটি বছর। গবেষকদের মতে, এটিই হতে পারে পৃথিবীর এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে পুরনো পাথর।
বিভিন্ন আধুনিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে এই পাথরের বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে। পরীক্ষার ফল বলছে, পৃথিবী যখন সদ্য ঠান্ডা হতে শুরু করেছে, ঠিক সেই সময়েই এই পাথরের জন্ম। অর্থাৎ, পৃথিবীর প্রাথমিক ভূত্বক তৈরির একেবারে গোড়ার দিকের সাক্ষী এই কালচে রঙের পাথর।
এই আবিষ্কার বিজ্ঞানী ও গবেষকদের কাছে এক অনন্য সুযোগ এনে দিয়েছে। এই পাথরের গঠন, খনিজ উপাদান ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে তাঁরা জানতে পারবেন—পৃথিবী কীভাবে অসহনীয় উত্তাপ থেকে ধীরে ধীরে বাসযোগ্য গ্রহে পরিণত হয়েছে। পৃথিবীর আদিম বায়ুমণ্ডল, ভূত্বকের গঠন এবং সম্ভবত জীবনের সূচনার পূর্বপর্ব সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত মিলতে পারে এই পাথর থেকে।
বর্তমানে বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই ৪১৬ কোটি বছরের প্রাচীন পাথরের গভীর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের আশা, এই নিঃশব্দ সাক্ষীর ভেতরেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর শৈশবের বহু অজানা গল্প—যা মানবজাতির জ্ঞানভাণ্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.