ঋতুস্রাবের সময় পেটে অস্বস্তি বা হালকা ব্যথা অনেক নারীর ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু সেই ব্যথা যদি অসহনীয় হয়ে ওঠে, দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত করে বা মাসিকের আগেপরে দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হয়, তাহলে বিষয়টিকে অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন উপসর্গের পিছনে এন্ডোমেট্রিয়োসিস নামে একটি জটিল স্ত্রীরোগ দায়ী হতে পারে।
এন্ডোমেট্রিয়োসিস এমন একটি অবস্থা, যেখানে জরায়ুর অভ্যন্তরীণ আবরণের মতো টিস্যু জরায়ুর বাইরে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। এই অস্বাভাবিক টিস্যু ডিম্বাশয়, ফ্যালোপিয়ান টিউব কিংবা শ্রোণী অঞ্চলের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে সিস্ট, প্রদাহ বা আঁশযুক্ত টিস্যু তৈরি হয়ে ব্যথা ও অন্যান্য জটিলতার কারণ হয়।
অনেক নারী প্রথমদিকে এন্ডোমেট্রিয়োসিসের লক্ষণকে সাধারণ মাসিকের সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস)-এর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। ফলে রোগ নির্ণয়ে দেরি হয়। অথচ দ্রুত শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে জটিলতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

এই রোগের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো মাসিকের সময় বা তার আগে-পরে তলপেট ও কোমরে তীব্র ব্যথা। অনেকের ক্ষেত্রে ব্যথা এতটাই বেশি হয় যে স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, মাসে একাধিকবার ঋতুস্রাব হওয়া, মলত্যাগ বা প্রস্রাবের সময় ব্যথা অনুভব করা, অবসাদ, বমিভাব, মাথা ঘোরা এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, সাধারণত ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সি নারীদের মধ্যে এন্ডোমেট্রিয়োসিস বেশি দেখা যায়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা ছাড়া থাকলে এটি প্রজনন ক্ষমতার উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে গর্ভধারণে সমস্যা বা বন্ধ্যত্বের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
তাই মাসিকের ব্যথাকে সবসময় স্বাভাবিক ভেবে উপেক্ষা না করে শরীরের অন্যান্য উপসর্গের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। যদি দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ব্যথা, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা যায়, তবে দ্রুত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা ভবিষ্যতের বড় জটিলতা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.