জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী ন্যায়ের দেবতা শনিদেব যখন অস্ত অবস্থায় থাকেন, তখন তাঁর প্রভাব দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে জীবনে শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও কর্মফলের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। ২০২৬ সালে ১৩ মার্চ শনিদেব মীন রাশিতে অস্ত যেতে চলেছেন এবং এই অস্ত অবস্থায় তিনি থাকবেন আগামী ২২ এপ্রিল পর্যন্ত। জ্যোতিষীদের মতে, এই সময়টি বিশেষ করে চারটি রাশির জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
এই সময় আর্থিক ক্ষতি, স্বাস্থ্যগত সমস্যা এবং কর্মক্ষেত্রে বাধার সম্ভাবনা বাড়ে। হোলির পর থেকেই এই প্রভাব ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে পারে বলে মত জ্যোতিষীদের। তাই সংশ্লিষ্ট রাশির জাতক-জাতিকাদের এই সময় বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মেষ রাশি
মেষ রাশির জাতকদের জন্য এই সময় অর্থনৈতিক দিক থেকে বেশ সংবেদনশীল। হঠাৎ সিদ্ধান্ত বা তাড়াহুড়ো করে নেওয়া আর্থিক পদক্ষেপ লোকসানের কারণ হতে পারে। কাউকে ঋণ দেওয়া এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। রাগ ও আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সমস্যাকে অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
তুলা রাশি
তুলা রাশির জন্য শনির অস্ত লোকসানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঋণ নেওয়া, কাউকে টাকা ধার দেওয়া কিংবা নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। এই সময় স্বাস্থ্যে ওঠানামা দেখা দিতে পারে, তাই খাদ্যাভ্যাসে উদাসীনতা একেবারেই নয়। তর্ক-বিতর্ক ও রাগ এড়িয়ে চললে অনেক সমস্যাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
বৃশ্চিক রাশি
বৃশ্চিক রাশির জাতকদের জন্য শনির অস্তকাল অর্থ ও পারিবারিক বিষয়ে চাপ বাড়াতে পারে। টাকাপয়সা বা সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পরিবারের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ছোটখাটো স্বাস্থ্য সমস্যাও ভবিষ্যতে বড় আকার নিতে পারে, তাই শুরু থেকেই সতর্ক থাকা দরকার। অহংকার ও রাগ পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে।
মকর রাশি
মকর রাশি শনির নিজ রাশি হওয়ায় প্রভাব তুলনামূলকভাবে গভীর হতে পারে। এই সময় হঠাৎ করে খরচ বেড়ে যেতে পারে এবং পূর্বে লাভজনক বিনিয়োগও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। মানসিক চাপ, ক্লান্তি ও অস্থিরতা বাড়তে পারে। রাগের বশে নেওয়া সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে হতাশার কারণ হতে পারে, তাই ধৈর্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
শনির অশুভ প্রভাব কাটানোর উপায়
জ্যোতিষ মতে, কিছু সহজ উপায় মেনে চললে শনির অশুভ প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব—
প্রতি শনিবার শনিদেবকে সর্ষের তেল অর্পণ করুন
কালো তিল দান বা অর্পণ করুন
নিয়মিত শনি চালিশা পাঠ করুন
কালো কুকুরকে রুটি খাওয়ান
সামর্থ্য অনুযায়ী কালো তিল, কম্বল বা ডাল দরিদ্রদের দান করুন
এই সময় ধৈর্য, সংযম ও সতর্কতাই হতে পারে সবচেয়ে বড় রক্ষা কবচ।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.