২০২৬ সাল জ্যোতিষশাস্ত্রের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে, বিশেষ করে শনির সাড়েসাতির কারণে। বর্তমানে শনি মীন রাশিতে অবস্থান করছে এবং ২০২৬ সাল জুড়েই সে অবস্থান বজায় রাখবে। তবে এই বছরে শনির নক্ষত্র পরিবর্তনের ফলে সাড়েসাতির প্রভাব আরও তীব্র হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন জ্যোতিষীরা। বছরের শুরুতেই শনি পূর্ব ভাদ্রপদ নক্ষত্রে প্রবেশ করবে, তারপর যাবে উত্তর ভাদ্রপদ ও রেবতী নক্ষত্রে। এই ধারাবাহিক পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি পড়বে মেষ, কুম্ভ ও মীন—এই তিন রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে।
শনিকে কর্মফলদাতা গ্রহ বলা হয়। সে কখনও তাড়াহুড়ো করে ফল দেয় না, কিন্তু কর্ম অনুযায়ী বিচার করে। তাই শনির সাড়েসাতি মানেই শুধু কষ্ট নয়—এটি আত্মশুদ্ধি, পরিণত হওয়া এবং জীবনের প্রকৃত শিক্ষা পাওয়ার সময়ও বটে।
মেষ রাশি

মেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালে কর্মজীবনে ধীরে ধীরে উন্নতির যোগ রয়েছে। পরিশ্রমের ফল মিলবে ঠিকই, তবে তার জন্য ধৈর্য ধরে এগোতে হবে। কিছু সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে দ্বিধা তৈরি হতে পারে—সে ক্ষেত্রে আবেগ নয়, যুক্তিকে প্রাধান্য দেওয়াই শ্রেয়। অর্থনৈতিক দিক মোটামুটি স্থিতিশীল থাকবে, তবে অপ্রয়োজনীয় খরচ বাড়তে পারে। তাই সঞ্চয়ের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। পেশাগত ক্ষেত্রে উন্নতির সুযোগ আসবে, তবে অহংকার বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখলে সাফল্য সহজ হবে।
আরও পড়ুন:বছরের শেষ মঙ্গলবার ভাগ্যদেবীর ইঙ্গিত কী? : মেষ থেকে মীন কার ভাগ্য আছে কী? এক নজরে
আরও পড়ুন:Shani Nakshatra Gochar 2026: জানুয়ারিতেই বদলাচ্ছে ভাগ্য, শনির কৃপায় উজ্জ্বল হবে এই ৫ রাশি
কুম্ভ রাশি

২০২৬ সালে কুম্ভ রাশির জাতক-জাতিকারা শনির সাড়েসাতির শেষ পর্যায়ে প্রবেশ করবেন। এই সময় মানসিক চাপ কিছুটা বাড়তে পারে। একাধিক দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে হতে পারে, যার ফলে ক্লান্তি আসা স্বাভাবিক। তবে পরিকল্পনা করে কাজ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। অযথা দুশ্চিন্তা করলে সমস্যা বাড়তে পারে। পেশাগত ক্ষেত্রে ধৈর্য ও নিষ্ঠা বজায় রাখলে ভবিষ্যতে বড় সুযোগ আসতে পারে। কথাবার্তায় সংযম না রাখলে ব্যক্তিগত সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে, তাই সচেতন থাকা জরুরি।
আরও পড়ুন:পঞ্চগ্রহী যোগ ২০২৬: মকর রাশিতে পাঁচ গ্রহের মিলনে বদলাবে ৬ রাশির ভাগ্য
আরও পড়ুন:শঙ্খধ্বনিতে দূর হয় অশুভ শক্তি, ঘরে প্রবেশ করেন দেবী লক্ষ্মী
মীন রাশি

মীন রাশির উপর শনির প্রভাব তুলনামূলকভাবে গভীর হতে চলেছে। এই সময় আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির সুযোগ আসবে। সৎ পথে থাকলে শনির কঠোরতা অনেকটাই কম অনুভূত হবে। কাজের চাপ বাড়তে পারে, মানসিক ক্লান্তিও দেখা দিতে পারে। তবে ধৈর্য ও স্থিরতা বজায় রাখলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। কিছু বিষয় অস্পষ্ট মনে হলেও তা নিয়ে অতিরিক্ত ভাবনা না করাই শ্রেয়। পুরনো কিছু খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করতে পারলে জীবন নতুন পথে এগোবে। নীতি ও আদর্শে অটল থাকাই এই সময়ের শ্রেষ্ঠ উপায়।