২০২৬ সালের শুরুতেই জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী এক গুরুত্বপূর্ণ গ্রহীয় ঘটনা ঘটতে চলেছে। দৃক পঞ্জিকা অনুসারে, আগামী ৬ জানুয়ারি সকাল ৮টা ১৯ মিনিটে শুক্র ও মঙ্গল গ্রহ একে অপরের খুব কাছাকাছি অবস্থান করবে, যা জ্যোতিষশাস্ত্রে পরিচিত শুক্র–মঙ্গল যুদ্ধ নামে। এই অশুভ সংযোগ চলবে প্রায় চার দিন, অর্থাৎ ১০ জানুয়ারি সকাল ৯টা ১৩ মিনিট পর্যন্ত।
শুক্র প্রেম, সৌন্দর্য ও ভোগবিলাসের প্রতীক এবং মঙ্গল শক্তি, রাগ ও সাহসের কারক গ্রহ। প্রকৃতিগতভাবে একে অপরের বিপরীত হওয়ায় এই দুই গ্রহের সংঘাতে মানবজীবনে অস্থিরতা, উত্তেজনা ও মানসিক দ্বন্দ্ব দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে চারটি রাশির উপর এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে বলে জ্যোতিষীরা মনে করছেন।
মেষ রাশি (Aries)
মেষ রাশির অধিপতি গ্রহ মঙ্গল হওয়ায় এই সংযোগের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে। এই সময় অতিরিক্ত রাগ, অধৈর্যতা ও তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। কর্মক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্ত ক্ষতির কারণ হতে পারে। পারিবারিক বা প্রেমের সম্পর্কে কথা কাটাকাটি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। শারীরিকভাবে ক্লান্তি ও মানসিক অস্থিরতা অনুভূত হতে পারে।
আরও পড়ুন:নববর্ষে মদ-মাংস নয়, ভক্তি ও সৎকর্মের পথে চলার আহ্বান প্রেমানন্দ মহারাজের
বৃষ রাশি (Taurus)
বৃষ রাশির অধিপতি শুক্র হওয়ায় প্রেম ও পারিবারিক জীবনে অশান্তি দেখা দিতে পারে। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মতবিরোধ বড় আকার নিতে পারে। এই সময় অপ্রয়োজনীয় খরচ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই আর্থিক বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখাই হবে সেরা পথ।
আরও পড়ুন:নতুন বছরে বড় পরিবর্তন: ২০২৬ থেকে বন্ধ হতে পারে এই ৩ ধরনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট
তুলা রাশি (Libra)
তুলা রাশির জাতকদের মানসিক স্থিরতা কিছুটা নষ্ট হতে পারে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিধা, সম্পর্কের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি এবং কর্মক্ষেত্রে বিতর্কের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এই সময় ভারসাম্য বজায় রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় তর্ক এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
আরও পড়ুন:নতুন বছর ২০২৬: সূর্যের কৃপা পেতে ঘরে আনুন এই ৫ শুভ বস্তু
বৃশ্চিক রাশি (Scorpio)
এই সময় বৃশ্চিক রাশির জাতকদের রাগ ও হতাশা বেড়ে যেতে পারে। কর্মক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় মন খারাপ হতে পারে। দাম্পত্য জীবনেও উত্তেজনা দেখা দিতে পারে। মানসিক শান্তি বজায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।
উপসংহার:
শুক্র–মঙ্গল যুদ্ধের সময় ধৈর্য, সংযম ও সচেতনতা বজায় রাখাই সবচেয়ে বড় প্রতিকার। অযথা তর্ক, হঠাৎ সিদ্ধান্ত ও আবেগপ্রবণ আচরণ এড়িয়ে চললে এই অশুভ সময় সহজেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.