রাত জাগার অভ্যাসে ঘুম উধাও? রাহু–কেতু–শনির রোষে বাড়ছে অনিদ্রা

আজকের দ্রুতগতির জীবনে রাত জেগে থাকা যেন অনেকের কাছেই স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। মোবাইল স্ক্রল করতে করতে কখন যে রাত কাবার হয়ে যায়, টেরই পাওয়া যায় না। কেউ আবার ওয়েব সিরিজ বা সিনেমা দেখে রাত পার করেন, আবার কেউ কোনও কাজ না থাকলেও ঘুমোতে পারেন না। কিন্তু জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে, এই রাত জাগার অভ্যাস শুধু শারীরিক বা মানসিক সমস্যার কারণ নয়, এর প্রভাব পড়ে ভাগ্য ও গ্রহগত অবস্থানের উপরও।

জ্যোতিষশাস্ত্রে ঘুমের সমস্যা বা Sleep Problems Astrology অনুযায়ী, যাঁরা নিয়মিত রাত জাগেন, তাঁদের জীবনে রাহু, কেতু ও শনি গ্রহের অশুভ প্রভাব দ্রুত সক্রিয় হতে শুরু করে। শাস্ত্র মতে, রাত হল বিশ্রামের সময়। এই সময় প্রকৃতি শান্ত থাকে, মন ও শরীর নতুন শক্তি সঞ্চয় করে। কিন্তু এই স্বাভাবিক নিয়ম ভাঙলে জীবনে ধীরে ধীরে অস্থিরতা, হতাশা, মনঃসংযোগের অভাব এবং অনিদ্রার সমস্যা দেখা দেয়।

শনি দেব কর্মফলের গ্রহ। তিনি শৃঙ্খলা ও নিয়মের প্রতীক। অকারণে রাত জাগলে শনি দেব অসন্তুষ্ট হন বলে বিশ্বাস। এর ফল হিসেবে জীবনে বারবার বাধা, দেরি এবং সিদ্ধান্তহীনতা দেখা দেয়। অন্যদিকে রাহু বিভ্রান্তি, নেশা ও অস্থিরতার প্রতীক। গভীর রাতে মোবাইল, সোশ্যাল মিডিয়া বা অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যস্ত থাকলে রাহুর প্রভাব বাড়ে। কেতু আবার বিচ্ছিন্নতা ও একাকীত্বের গ্রহ, যার প্রভাবে মানসিক শূন্যতা ও ঘুমের সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

শাস্ত্র মতে, রাতে ঘুম না এলে অনেকেই খিদে পেলে খাবার খেয়ে নেন। কিন্তু গভীর রাতে খাবার খাওয়া অত্যন্ত অশুভ বলে মনে করা হয়। এতে হজম শক্তি দুর্বল হয় এবং রাহু-কেতুর প্রভাব বৃদ্ধি পায়। এর ফল হিসেবে পরের দিনও ঘুমের সমস্যা, মানসিক অস্থিরতা ও কাজে বাধা দেখা দেয়। তাই রাতের খাবার সম্ভব হলে রাত এগারোটার আগেই শেষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন:২০২৬-এর প্রথম গজকেশরী রাজযোগ: ৩ রাশির জীবনে অর্থকষ্টের অবসান, খুলছে সৌভাগ্যের দরজা

অযথা কোনও কারণ ছাড়া রাত জেগে থাকা শাস্ত্রে নিষিদ্ধ। পড়াশোনা, কাজ বা জরুরি কোনও দায়িত্ব থাকলে তা আলাদা বিষয়। কিন্তু শুধুমাত্র অভ্যাসবশত রাত জাগলে শনি দেবের কর্মফলের বিরূপ প্রভাব পড়ে। দীর্ঘদিন এমন চললে জীবনের স্থিরতা নষ্ট হয়, আত্মবিশ্বাস কমে যায় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বারবার ব্যর্থতা আসে।

আরও পড়ুন:আজ কারা সবচেয়ে লাকি? সিংহ, কন্যা, তুলা ও বৃশ্চিক রাশির ৩ জানুয়ারি ২০২৬-এর বিস্তারিত রাশিফল

শুধু নিজের ঘুম নষ্ট করাই নয়, গভীর রাতে অহেতুক ফোন, মেসেজ বা কল করে অন্যের ঘুম নষ্ট করাও বড় দোষ হিসেবে ধরা হয়। এতে রাহু, কেতু ও শনি—এই তিন গ্রহই রুষ্ট হন বলে বিশ্বাস। এর প্রভাব ব্যক্তিগত সম্পর্কের উপর পড়ে এবং মানসিক দূরত্ব বাড়তে থাকে।

সহজ কিন্তু কার্যকর উপায়

শাস্ত্র অনুযায়ী অনিদ্রার সমস্যা কমাতে কিছু সহজ উপায় মানা যেতে পারে। রাতে শুতে যাওয়ার আগে বিছানার পাশে এক বাটি পরিষ্কার জল রাখলে মন শান্ত হয় এবং ঘুম গভীর হয় বলে বিশ্বাস। শোবার ঘর পরিষ্কার ও গোছানো রাখা খুব জরুরি, কারণ নোংরা পরিবেশ মানসিক অস্থিরতা বাড়ায়।

আরও পড়ুন:আর্থিক লাভ নাকি কর্মক্ষেত্রে বাধা? জানুন আজকের দিন আপনার কেমন যাবে, ৩ জানুয়ারি রাশিফল

শোবার সময় মাথা উত্তর দিকে দিয়ে না শোবার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ এতে স্নায়বিক চাপ বাড়তে পারে। শোবার আগে কর্পূরের ধোঁয়া দিলে পরিবেশ শুদ্ধ হয় এবং নেতিবাচক শক্তি দূর হয় বলে বিশ্বাস। অনেকেই শোবার আগে দুর্গামন্ত্র বা শিবমন্ত্র জপ করেন, যা মনকে শান্ত করে এবং ঘুম আনতে সাহায্য করে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, রাত জাগা শুধুই একটি অভ্যাস নয়, এর সঙ্গে শরীর, মন এবং ভাগ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী সময়মতো ঘুমোতে যাওয়া এবং নিয়ম মেনে চললে অনিদ্রা যেমন কমবে, তেমনই জীবনে আসবে স্থিরতা ও শুভ ফল।

আরও পড়ুন:শান্ত কিন্তু রাগলে ভয়ংকর: এই ৫ রাশির রাগ সবচেয়ে বিপজ্জনক কেন?

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক