ভারতীয় টেলিভিশনের ইতিহাসে এমন কিছু অনুষ্ঠান আছে, যা সময়ের সীমা ছাড়িয়ে এক একটি আবেগে পরিণত হয়েছে। ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ ঠিক তেমনই এক নাম, যা গত ২৫ বছর ধরে কোটি কোটি ভারতীয় দর্শকের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। আর এই শোয়ের সঙ্গে যাঁর নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে, তিনি হলেন বলিউডের শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন।
নতুন বছরের শুরুতেই সম্প্রচারিত হলো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ সিজন ১৭-এর গ্র্যান্ড ফিনালে। শুক্রবারের এই বিশেষ পর্ব শুধু একটি সিজনের সমাপ্তি নয়, বরং আবেগে ভরা এক স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে রইল দর্শকদের কাছে। ফাইনালে দাঁড়িয়ে অমিতাভ বচ্চন ফিরে তাকালেন তাঁর দীর্ঘ যাত্রার দিকে, আর চোখের কোণে জমে উঠল জল।
২০০০ সালে শুরু হওয়া কেবিসির সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে বিগ বি জানান, তাঁর জীবনের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি সময় তিনি এই শোয়ের সঙ্গে কাটিয়েছেন। উদ্বোধনী মনোলগে তিনি বলেন, কখনও কখনও কোনও মুহূর্ত এতটাই আপন হয়ে যায় যে তার শেষ এসে গেলেও মনে হয়, যেন সবেমাত্র শুরু হয়েছিল। এত দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকদের ভালোবাসা পাওয়াকে তিনি নিজের জীবনের অন্যতম বড় আশীর্বাদ বলে উল্লেখ করেন।
অমিতাভ আরও বলেন, প্রতিবার টেলিভিশনের পর্দায় ফিরে এসে দর্শকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা তাঁকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি হাসলে দর্শক হেসেছেন, তাঁর চোখে জল এলে দর্শকদের চোখেও জল এসেছে। এই দীর্ঘ যাত্রায় দর্শকরাই ছিলেন তাঁর প্রকৃত সঙ্গী। আবেগে কণ্ঠ ভারী করে তিনি স্পষ্ট বলেন, দর্শক না থাকলে কেবিসি থাকত না, আর কেবিসি না থাকলে আজ তাঁরাও এখানে থাকতেন না।
গ্র্যান্ড ফিনালে পর্বটি ছিল একেবারে উৎসবের মেজাজে ভরা। ৩০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে অমিতাভ বচ্চন মঞ্চে গেয়েছেন ‘রং বারসে’, ‘হোরি খেলে রঘুবীরা’ এবং ‘মেরে আংনে মে’-র মতো জনপ্রিয় গান। দর্শকদের হাসিতে ভরিয়ে দিতে হট সিটে হাজির হন জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা কিকু সারদা, যাঁর সঙ্গে বিগ বি-র মজার কথোপকথন অনুষ্ঠানে বাড়তি রঙ যোগ করে।
এই অনুষ্ঠানের নেপথ্যের গল্পও কম আকর্ষণীয় নয়। কেবিসির নির্মাতা সমীর নায়ার এক সাক্ষাৎকারে জানান, কীভাবে ব্রিটিশ শো ‘Who Wants to Be a Millionaire?’-এর ভারতীয় সংস্করণে অমিতাভ বচ্চনকে হোস্ট হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। শুরুতে টেলিভিশনে পূর্ণকালীন কাজ নিয়ে কিছুটা সংশয়ে ছিলেন জয়া বচ্চন। তবে লন্ডনে গিয়ে মূল শোয়ের সেট ঘুরে দেখার পরই অমিতাভ কেবিসির সঙ্গে যুক্ত হতে সম্মতি দেন।
সমীর নায়ারের মতে, প্রযুক্তি ও সময় বদলালেও দর্শকের কাছে অমিতাভ বচ্চনের আবেদন আজও অটুট। আর এই বিশ্বাস, অভিজ্ঞতা ও আবেগের মেলবন্ধনই কেবিসিকে এত বছর ধরে সফল করে রেখেছে। কেবিসির মঞ্চে অমিতাভ বচ্চনের চোখের জল যেন সেই দীর্ঘ, অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কেরই নীরব সাক্ষ্য।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.