বেরোনোর ঠিক আগমুহূর্তে হাঁচি এলে অনেকেই থমকে যান। বাড়ির বড়রা বসতে বলেন, জল খাওয়ান, কেউ কেউ মন্ত্রও পড়ে ফেলেন। সমাজে এতটাই গেঁথে আছে এই বিশ্বাস যে, শুভ কাজ শুরুর আগে হাঁচি মানেই অমঙ্গল। কিন্তু সত্যিই কি হাঁচির সঙ্গে বিপদের কোনও সম্পর্ক আছে, নাকি এটি কেবল প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা কুসংস্কার?
হাঁচি কী এবং কেন হয়
হাঁচি কোনও অলৌকিক ঘটনা নয়; এটি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া। ধুলো, ধোঁয়া, ঠান্ডা বাতাস, অ্যালার্জি বা নাকের ভেতরের স্নায়ু উত্তেজিত হলেই হাঁচি আসে। এর উদ্দেশ্য—নাকের ভিতরে থাকা ক্ষতিকর কণা বাইরে বের করে দেওয়া। হাঁচি কখন আসবে, তা সময়, কাজ বা যাত্রার সঙ্গে যুক্ত নয়।
লোকবিশ্বাসের শিকড়
ভারতীয় সমাজে শুভ-অশুভের ধারণা বহু পুরোনো। বিড়ালের রাস্তা কাটা, চোখ কাঁপা, কাকের ডাকের মতোই হাঁচিকেও লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়েছে। শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায় কোথাও বলা হয়েছে, যাত্রার মুহূর্তে হাঁচি এলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা ভালো। আবার অন্যত্র বলা হয়, পরপর দু’বার হাঁচি এলে যাত্রা করা যায়। এমনকি রাতে খাওয়ার পর হাঁচিকে শুভ বলেও ধরা হয়েছে। অর্থাৎ সময় ও প্রেক্ষাপট বদলালে ব্যাখ্যাও বদলে যায়—যা থেকেই বোঝা যায়, এই ধারণার কোনও স্থায়ী যুক্তি নেই।
বিজ্ঞান কী বলে
চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, হাঁচির সঙ্গে ভাগ্য, দুর্ঘটনা বা কাজের সাফল্য-ব্যর্থতার কোনও সম্পর্ক নেই। বেরোনোর আগে হাঁচি দিলে বিপদ ঘটবে—এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং দুশ্চিন্তা বা নার্ভাসনেস থাকলে কুসংস্কার আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে, আর সামান্য ঘটনাকেও বড় অশুভ ইঙ্গিত বলে মনে হয়।
মনোবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
মনোবিজ্ঞানীরা একে বলেন confirmation bias। অর্থাৎ, হাঁচির পর যদি কখনও কোনও সমস্যা হয়, সেটাই মনে গেঁথে যায়। কিন্তু অসংখ্য বার হাঁচি দিয়েও নির্বিঘ্নে কাজ সম্পন্ন করার ঘটনা আমরা ভুলে যাই। এই বাছাই করা স্মৃতিই কুসংস্কারকে টিকিয়ে রাখে।
বাস্তব সতর্কতা
একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উপেক্ষা করা উচিত নয়। ঘনঘন হাঁচি, নাক দিয়ে জল পড়া, চোখ চুলকানো বা শ্বাসকষ্ট থাকলে তা অ্যালার্জি বা অন্য শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। সেক্ষেত্রে কুসংস্কারে না ভেবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
উপসংহার
আধুনিক যুগে বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদ আমাদের পথ দেখালেও সামাজিক অভ্যাস হিসেবে অনেকেই মানসিক শান্তির জন্য এই নিয়ম মানেন। তাতে ক্ষতি না হলে কিছুক্ষণ বসে নেওয়া বা জল খাওয়াতে সমস্যা নেই। তবে হাঁচির ভয়ে সিদ্ধান্ত বদলানো বা কাজ থামিয়ে দেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়।
সবশেষে বলা যায়—বেরোনোর সময় হাঁচি মানেই বিপদ নিশ্চিত—এই ধারণার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। সচেতনতা ও যুক্তিবোধই কুসংস্কার থেকে মুক্তির পথ।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.