গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে শুধু অস্বস্তিই নয়, বাড়ছে বিভিন্ন ধরনের পেটের সংক্রমণও। দেশের একাধিক শহরের পাশাপাশি কলকাতাতেও ডায়েরিয়া, বমি, পেট ব্যথা এবং জ্বরের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে। শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে, এই সময়ে যে ভাইরাল গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস ছড়াচ্ছে, সাধারণ ভাবে তাকেই অনেকে ‘স্টমাক ফ্লু’ নামে চিহ্নিত করছেন।
কেন বাড়ছে সংক্রমণ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে তাপমাত্রা ৩০ থেকে ৪৫ ডিগ্রির মধ্যে পৌঁছলে নানা ধরনের ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়া দ্রুত বংশবিস্তার করে। ফলে খাবার ও পানীয় সহজেই দূষিত হয়ে পড়ে। ঠিকমতো সংরক্ষণ না করা খাবার, দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা রান্না করা পদ, এমনকি ফ্রিজে রাখা বাসি খাবার থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, নোরোভাইরাস ও রোটাভাইরাসের মতো ভাইরাস এই সময় বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে ভাইরাল গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের সংক্রমণ বাড়ে। পাশাপাশি সালমোনেল্লা ও ই-কোলাই জাতীয় ব্যাক্টেরিয়াও খাদ্যে বিষক্রিয়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
আর্দ্রতা বেশি থাকলে খাবার দ্রুত নষ্ট হয়। তাই কয়েক ঘণ্টা বাইরে রাখা রান্না করা খাবারেও ব্যাক্টেরিয়া জন্মাতে পারে। বিশেষ করে রাস্তার ধারের কাটা ফল, শরবত, লস্যি বা অপরিষ্কার পরিবেশে তৈরি খাবার থেকে ঝুঁকি অনেকটাই বাড়ে।
কী কী উপসর্গ দেখা দিচ্ছে?
এই সংক্রমণে সাধারণত দেখা যাচ্ছে—
*জ্বর
*পেট ব্যথা
*ডায়েরিয়া
*বমি
*দুর্বলতা
*শরীরে জলশূন্যতা
অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা এক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় স্থায়ী হচ্ছে। শিশুদের ক্ষেত্রে ডিহাইড্রেশন দ্রুত বাড়তে পারে, যা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। বয়স্ক ব্যক্তি, ডায়াবিটিস বা কিডনির রোগী এবং যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাঁদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে।
কী ভাবে সতর্ক থাকবেন?
১. পর্যাপ্ত জল পান করুন
গরমে শরীর থেকে দ্রুত জল বেরিয়ে যায়। তাই বেশি করে জল, ওআরএস, নুন-চিনির শরবত বা ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর পানীয় খেতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে ফুটিয়ে ঠান্ডা করা জল খাওয়ানো নিরাপদ।
২. বাসি খাবার এড়িয়ে চলুন
রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় বাইরে ফেলে রাখবেন না। ঠান্ডা হয়ে গেলে আবার ভালো করে গরম করে তবেই খান। ফ্রিজে রাখা খাবারও সতর্কতার সঙ্গে খেতে হবে।
৩. বাইরের খাবারে সতর্কতা
রাস্তার ধারের কাটা ফল, ফলের রস, লস্যি বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার না খাওয়াই ভালো। অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার ও জাঙ্ক ফুডও এড়িয়ে চলতে হবে।
৪. খালি পেটে অতিরিক্ত চা-কফি নয়
চিকিৎসকদের মতে, খালি পেটে অতিরিক্ত চা বা ব্ল্যাক কফি খেলেও পেটের সমস্যা বাড়তে পারে।
৫. হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খান
কম তেলে রান্না করা হালকা খাবার, ভাত, ডাল, সেদ্ধ সবজি বা দই জাতীয় খাবার পেটের জন্য আরামদায়ক হতে পারে।
গরমের সময়ে সামান্য অসতর্কতাই বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই পরিষ্কার খাবার, বিশুদ্ধ জল এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.