রাত পোহালেই শুরু হচ্ছে চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা। পরীক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছনো ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে একাধিক কড়া নির্দেশিকা জারি করল মেদিনীপুর পুরসভা। রবিবার শহরজুড়ে মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে এই নির্দেশাবলি জানানো হয়। একই সঙ্গে সোমবার থেকে শহরে যানজট রুখতে আরও সতর্ক থাকবে পুলিশ-প্রশাসন।
পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন শহরে যত্রতত্র পার্কিং করা যাবে না। পরীক্ষা কেন্দ্রের আশেপাশে বাজার বসানো বা দোকান খোলা নিষিদ্ধ থাকবে। পরীক্ষার সময়ে শহরে বড় গাড়ি প্রবেশের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ হিসেবে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা চলাকালীন কোনও মাইক বা লাউডস্পিকার বাজানো যাবে না। এমনকি ডেকরেটরদের মাইক ভাড়া দেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নির্দেশ অমান্য করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে পুরসভা।
মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান বলেন, “মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়ে শহরে যানজট ও শব্দদূষণ রুখতেই এই ব্যবস্থা। লাউডস্পিকার বা মাইক বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ডেকরেটরদেরও বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ নিয়ম ভাঙলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, পরীক্ষার দিনগুলিতে মেদিনীপুর শহরের রিং রোডে যাতে কোনও যানজট না হয়, সে জন্য উদ্যোগী হয়েছে শহর INTTUC নেতৃত্ব। রবিবার দুপুরে শহরের বিভিন্ন ফুটপাথে বসা হকারদের সতর্ক করা হয়েছে যাতে রাস্তার উপর কোনও মালপত্র না রাখা হয়। পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য মেদিনীপুর শহরের এলআইসি মোড়ে দু’টি টোটো রাখা হচ্ছে INTTUC-র পক্ষ থেকে, যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরিষেবা দেবে। এই তথ্য জানিয়েছেন INTTUC-র মেদিনীপুর শহরের সহ-সভাপতি শেখ লিয়াকত।
জেলার পরীক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকেও উল্লেখযোগ্য তথ্য সামনে এসেছে। গত বছরের তুলনায় এ বার পশ্চিম মেদিনীপুরে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। গত বছর যেখানে পরীক্ষার্থী ছিল ৫৩,১৯৬ জন, এ বার রেজিস্ট্রেশন করেছে ৫৮,৭৯০ জন। শেষ পর্যন্ত প্রায় ৫৬ হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসতে চলেছে। পরীক্ষার আগের দিন রবিবারও জেলার দুই ছাত্রীকে অ্যাডমিট কার্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পর্ষদের জেলা মনিটরিং কমিটির আহ্বায়ক সুভাষ হাজরা।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (ডিআই) অমিত রায় জানান, প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের মূল প্রবেশদ্বার ও স্ট্রংরুমে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। কোনও পরীক্ষার্থী মোবাইল ফোন নিয়ে ধরা পড়লে তার সমস্ত পরীক্ষা বাতিল করা হবে। পাশাপাশি পরীক্ষাকেন্দ্রে পর্যাপ্ত পানীয় জল ও আলোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। জেলার ১১টি এলিফ্যান্ট করিডর এলাকায় থাকা পরীক্ষার্থীদের বন দপ্তরের পক্ষ থেকে এসকর্ট করে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতেও প্রশাসনের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর মিলিয়ে মোট ১১৫টি পরীক্ষা কেন্দ্রে মাধ্যমিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পূর্ব মেদিনীপুরে মোট পরীক্ষার্থী ৬০,৭৫৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২৮,৯৫৯ জন এবং ছাত্রী ৩১,৭৯৭ জন। ছাত্রের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা ২,৮৩৭ জন বেশি।
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক ইউনিস ঋষিন ইসমাইল জানিয়েছেন, পরীক্ষার্থীরা যদি পথে কোনও সমস্যায় পড়েন, তা হলে দ্রুত পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সমস্ত থানাকে এই বিষয়ে অ্যালার্ট করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে বাস পরিষেবা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা বাস পরিবহণ সংগঠনগুলি। পূর্ব মেদিনীপুর ইউনিফাইড বাস মালিক সমিতির সম্পাদক শিবপ্রসাদ বেরা জানান, প্রশাসনের নির্দেশ মেনে পরীক্ষার দিনগুলিতে পরীক্ষার্থীদের কোনও বাসভাড়া নেওয়া হবে না। মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড দেখালেই পরীক্ষার্থীরা বিনামূল্যে বাসে যাতায়াত করতে পারবেন।
সব মিলিয়ে, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে মাধ্যমিক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রশাসন, পুরসভা, সংগঠন এবং পরিবহণ ব্যবস্থার সম্মিলিত উদ্যোগে জেলায় তৈরি হয়েছে শক্ত প্রস্তুতি।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.