বলিউড অভিনেতা সুনীল শেঠি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের একেবারে ব্যক্তিগত অধ্যায় খুলে ধরেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আজ আর নিজেকে বক্স অফিসের বিচারে ‘প্রাসঙ্গিক’ অভিনেতা মনে করেন না। তবু তাঁর বিশ্বাস, ফিটনেস, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধই তাঁকে আজও মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে রেখেছে।
পিপিং মুন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুনীল জানান, ২০১৭ সালে তাঁর বাবা বীরাপ্পা শেঠির মৃত্যু তাঁকে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছিল। তার আগের কয়েক বছর বাবার অসুস্থতার কারণে সব কাজ প্রায় থেমে গিয়েছিল। অভিনেতার কথায়, “আমি তখন মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম না। সবকিছু ছেড়ে দিয়েছিলাম। বাবার মৃত্যুর দিন সকালে হঠাৎ একটি হেলথ শোর প্রস্তাব আসে—সেই মুহূর্তটা আজও ভুলতে পারি না।”
দীর্ঘ ৬–৭ বছর অভিনয় থেকে দূরে থাকার পর ইন্ডাস্ট্রিতে ফেরা যে সহজ ছিল না, সেটাও অকপটে স্বীকার করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “মনে হচ্ছিল আমি হয়তো নিজের কাজই ভুলে গেছি। ইন্ডাস্ট্রি বদলে গেছে, আমিও অস্বস্তিতে ছিলাম।”
তবে কোভিড পরবর্তী সময়ে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলেন সুনীল শেঠি। শরীরচর্চা, আত্মোন্নয়ন ও মানসিক দৃঢ়তাই তাঁকে আবার আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। তিনি বলেন, “এক সময় এমন জায়গায় পৌঁছাই, যেখানে আর কারও স্বীকৃতির প্রয়োজন ছিল না। ঈশ্বর ও লক্ষ্মী মা ঠিক সময়ে পাশে ছিলেন।”
সুনীল আরও জানান, তিনি হয়তো নিয়মিত লাইমলাইটে ছিলেন না, কিন্তু মিডিয়া ও দর্শক কখনও তাঁকে ভুলে যায়নি। তাঁর মতে, মানুষ এখন কৃত্রিম জনপ্রিয়তার বদলে বাস্তব ও সৎ ব্যক্তিত্বকে বেশি মূল্য দেয়।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো—একটি তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপনের জন্য প্রায় ৪০ কোটি টাকার প্রস্তাব তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর সাফ কথা, “আমি টাকার জন্য নিজের মূল্যবোধ বিক্রি করব না। এমন কিছু করব না, যাতে আমার সন্তান আহান বা আথিয়া লজ্জা পায়।”
শেষে সুনীল শেঠি বলেন, “আজও ১৭–১৮ বছরের তরুণরা আমাকে অনুসরণ করে, ভালোবাসে। সেই সম্মান কয়েক কোটি টাকার থেকেও অনেক বড়।”

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.