ভারতে ক্লাউড সার্ভিসে ট্যাক্স হলিডে: এআই শিল্পে কতটা গতি আনবে এই সিদ্ধান্ত?

কেন্দ্রীয় বাজেটে মধ্যবিত্ত করদাতাদের জন্য বড় কোনও স্বস্তির ঘোষণা না থাকলেও, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) শিল্পের জন্য এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ঘোষণা করেছেন, ভারতে ডেটা সেন্টার তৈরি করে সেখান থেকে গোটা বিশ্বের জন্য ক্লাউড সার্ভিস প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে ২০৪৭ সাল পর্যন্ত কর্পোরেট ট্যাক্স থেকে সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হবে। এই ‘ট্যাক্স হলিডে’ ঘোষণাকে এআই ও ক্লাউড ইকোসিস্টেমে ভারতের অবস্থান শক্তিশালী করার বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

কী বলেছেন অর্থমন্ত্রী?

বাজেট বক্তৃতায় নির্মলা সীতারামন স্পষ্ট করে বলেন, যে কোনও বিদেশি সংস্থা যদি ভারতের ডেটা সেন্টার পরিকাঠামো ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক স্তরে ক্লাউড পরিষেবা দেয়, তবে তারা দীর্ঘমেয়াদি ট্যাক্স হলিডের সুবিধা পাবে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও রাখা হয়েছে—ভারতের গ্রাহকদের পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিদেশি সংস্থাকে অবশ্যই কোনও ভারতীয় রিসেলার সংস্থার মাধ্যমে পরিষেবা দিতে হবে। এর ফলে দেশীয় আইটি ও পরিষেবা সংস্থাগুলিও পরোক্ষভাবে লাভবান হবে।

কেন এআই সেক্টরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির দৌড়ে উন্নত দেশগুলির সঙ্গে সমানতালে চলতে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই নিজেকে একটি বড় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। ডেটা সেন্টার, ক্লাউড কম্পিউটিং ও এআই—এই তিনটি ক্ষেত্র একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। শক্তিশালী ডেটা সেন্টার পরিকাঠামো ছাড়া বৃহৎ এআই মডেল তৈরি বা পরিচালনা কার্যত অসম্ভব।

এই লক্ষ্যেই গত বছর বিশাখাপত্তনমে ১ গিগাওয়াট ক্ষমতার ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস তৈরির ঘোষণা করেছে গুগল। মাইক্রোসফট, অ্যামাজ়ন, মেটার মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরাও ইতিমধ্যেই ভারতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরে শুধুমাত্র এই সেক্টরেই প্রায় ৬৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হতে পারে। পাশাপাশি একাধিক ভারতীয় সংস্থার সঙ্গে জয়েন্ট ভেঞ্চারও গড়ে উঠছে।

ট্যাক্স হলিডে কতটা কাজে আসবে?

চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট সুমন্ত্র গুহের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশি সংস্থাগুলিকে কর্পোরেট ট্যাক্স দিতে হবে না, যা তাদের জন্য ভারতের বাজারকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। এতে শুধু বিনিয়োগই নয়, দীর্ঘমেয়াদে উন্নত পরিকাঠামো ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের পথও প্রশস্ত হবে।

অন্যদিকে, পার্সোনাল ফিনান্স বিশেষজ্ঞ নীলাঞ্জন দে মনে করছেন, এই ঘোষণার সরাসরি প্রভাব এখনই শেয়ার বাজারে পড়বে না। কারণ ভারতের নিজস্ব এনভিডিয়া-র মতো চিপ প্রস্তুতকারী সংস্থা এখনও নেই। তবে অনুসারী শিল্প, ডেটা সেন্টার পরিষেবা, বিদ্যুৎ, রিয়েল এস্টেট এবং জয়েন্ট ভেঞ্চারে যুক্ত বড় ভারতীয় সংস্থাগুলি ভবিষ্যতে এর সুফল পেতে পারে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সম্ভাবনাও উজ্জ্বল।

সব মিলিয়ে, মধ্যবিত্তের পকেটে তাৎক্ষণিক স্বস্তি না এলেও, ক্লাউড ও এআই সেক্টরে এই ট্যাক্স হলিডে সিদ্ধান্ত ভারতের প্রযুক্তিগত ভবিষ্যতের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত বাজি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক