সারাদিন কঠোর পরিশ্রমের পর ক্লান্ত লাগা স্বাভাবিক। কিন্তু অনেকেই আছেন, যাঁদের তেমন কাজ না করেও সারাক্ষণ অবসন্ন লাগে। মন বসে না কোনও কাজে, সারাদিন শুয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। এই ধরনের ক্লান্তি যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তবে তা কখনই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীর অকারণে ক্লান্ত হয় না—এর পিছনে নির্দিষ্ট কারণ থাকে। সেই কারণ চিহ্নিত করতে পারলেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।
নিচে এমন পাঁচটি সম্ভাব্য কারণ তুলে ধরা হল, যেগুলির জন্য সারাদিন ক্লান্তি পিছু নিতে পারে—
১) ঘুমের সমস্যা
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ও মস্তিষ্ক দু’টিই বিশ্রাম পায় না। অনেকেই দিনে ৬-৭ ঘণ্টার কম ঘুমান, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্লান্তির কারণ হয়।
আবার কেউ কেউ দীর্ঘক্ষণ ঘুমোলেও সমস্যার সমাধান হয় না। ঘুমের মধ্যে জোরে নাক ডাকা বা বারবার শ্বাস আটকে যাওয়া ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’-র লক্ষণ হতে পারে। এই অবস্থায় গভীর ঘুম হয় না, ফলে সারাদিন অবসাদ ভর করে থাকে।
২) ভিটামিন ও আয়রনের অভাব
অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি দেখা দেয়। বিশেষ করে ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২ এবং আয়রনের অভাব থাকলে দুর্বলতা ও ক্লান্তি বাড়ে। রক্তাল্পতাও এর একটি বড় কারণ। নিয়মিত রক্তপরীক্ষার মাধ্যমে এই ঘাটতি ধরা সম্ভব।
৩) ডায়াবেটিস
রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে শরীর শক্তি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না। ফলে অকারণে ক্লান্তি দেখা দেয়। সারাদিন অবসন্ন লাগলে প্রথমেই রক্তে সুগারের মাত্রা পরীক্ষা করানো উচিত। প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
৪) থাইরয়েডের সমস্যা
থাইরয়েড হরমোনের তারতম্য শরীরের বিপাকক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে। থাইরয়েড হরমোন কম (হাইপোথাইরয়েড) বা বেশি (হাইপারথাইরয়েড)—দুই ক্ষেত্রেই ক্লান্তি, দুর্বলতা ও অনীহা দেখা দিতে পারে। তাই সুগার টেস্টের পাশাপাশি থাইরয়েড পরীক্ষা করানোও জরুরি।
৫) ডিপ্রেশন ও মানসিক চাপ
শুধু শরীর নয়, মনও ক্লান্তির বড় কারণ হতে পারে। দীর্ঘদিন দুশ্চিন্তা, উৎকণ্ঠা বা হতাশায় ভুগলে সারাদিন অবসাদগ্রস্ত লাগতে পারে। কাজে মন না বসা, আগ্রহ হারিয়ে ফেলা—এসবই ডিপ্রেশনের লক্ষণ। তাই মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
কী করবেন?
দীর্ঘদিন অকারণে ক্লান্ত লাগলে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনীয় রক্তপরীক্ষা করে সঠিক কারণ চিহ্নিত করুন। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে বড় রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.