বর্তমান সময়ে অনেক মানুষই একটি সাধারণ সমস্যার মুখোমুখি হন—আয় মন্দ নয়, তবুও মাসের মাঝামাঝি পৌঁছনোর আগেই পকেট প্রায় ফাঁকা। হিসেব করে খরচ করার পরেও অজান্তেই কোথা দিয়ে যেন টাকা বেরিয়ে যায়। অনেকে এর জন্য অতিরিক্ত খরচ বা ভাগ্যকে দায়ী করলেও বাস্তুশাস্ত্র বলছে, সমস্যার মূল লুকিয়ে থাকতে পারে আমাদের বাড়ির মধ্যেই।
বাস্তু অনুযায়ী, অর্থ কেবল উপার্জনের বিষয় নয়, এটি একটি শক্তি। এই অর্থশক্তি সঠিকভাবে প্রবাহিত হলে ঘরে টাকা আসে, থাকে এবং ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। কিন্তু যদি বাড়ির ভুল জায়গায় টাকা রাখা হয়, তা হলে আয় যতই ভালো হোক না কেন, সঞ্চয় করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
বাস্তুশাস্ত্রে দক্ষিণ-পশ্চিম দিককে স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। এই দিক ভারী ও বন্ধ থাকা উচিত। কিন্তু যদি এই অংশে দরজা, জানলা বা খোলা জায়গা থাকে এবং সেখানে টাকা বা লকার রাখা হয়, তা হলে অর্থ স্থায়ী হয় না বলে বিশ্বাস করা হয়। এর ফলে হঠাৎ খরচ বেড়ে যেতে পারে এবং সঞ্চয় ভেঙে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
শৌচালয়ের কাছাকাছি টাকা রাখা বাস্তুমতে সবচেয়ে বড় ভুলগুলির একটি। শৌচালয়কে নেগেটিভ শক্তির কেন্দ্র বলা হয়, যেখানে জল ও বর্জ্যের প্রবাহ ইতিবাচক শক্তিকে ধুয়ে নিয়ে যায়। এই কারণে শৌচালয় সংলগ্ন আলমারি, ড্রয়ার বা লকারে টাকা রাখলে অপ্রত্যাশিত বিল, চিকিৎসা খরচ বা আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়ে।
রান্নাঘর আগুনের শক্তির স্থান। আগুন শক্তিশালী হলেও অর্থশক্তির সঙ্গে তার সংঘর্ষ হয় বলে বাস্তুশাস্ত্র জানায়। বিশেষ করে গ্যাসের চুলা, ওভেন বা মাইক্রোওয়েভের পাশে নগদ টাকা, চেকবই, পাসবুক বা গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নথি রাখলে খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকে না। যতই চেষ্টা করা হোক, হাতে টাকা জমে না।
অনেক বাড়িতেই দেখা যায় বিছানার নীচে বা এলোমেলো ড্রয়ারে টাকা রাখা হয়। বাস্তুমতে, অব্যবস্থিত ও নোংরা জায়গায় রাখা অর্থ কখনও বৃদ্ধি পায় না। টাকা সবসময় পরিষ্কার, গোছানো ও সম্মানজনক স্থানে রাখা উচিত। অন্ধকার ও অগোছালো জায়গা অর্থের প্রতি অবচেতনে অবহেলা তৈরি করে, যার প্রভাব বাস্তব জীবনেও পড়ে।
বাস্তু অনুযায়ী, বাড়ির উত্তর দিক অর্থ ও নতুন সুযোগের দিক হিসেবে পরিচিত। এই দিক পরিষ্কার, হালকা ও খোলা থাকলে আর্থিক উন্নতি সহজ হয়। দক্ষিণ-পূর্ব বা দক্ষিণ-পশ্চিমের তুলনায় উত্তর দিকে টাকা বা আর্থিক নথি রাখলে তা বেশি স্থায়ী হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। তবে যেখানেই টাকা রাখা হোক না কেন, সেটি যেন শৌচালয়, রান্নাঘর বা আবর্জনার কাছাকাছি না হয়—এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম।
অনেকের কাছে এই নিয়মগুলি অন্ধ বিশ্বাস মনে হতে পারে। কিন্তু বহু মানুষ লক্ষ্য করেছেন, বাড়ির টাকা রাখার জায়গায় ছোট পরিবর্তন আনার পর অকারণে খরচ কমেছে এবং সঞ্চয়ের সুযোগ বেড়েছে। বাস্তুশাস্ত্র মূলত শক্তির ভারসাম্যের কথা বলে, আর অর্থও একটি শক্তি। সঠিক পরিবেশ না পেলে সেই শক্তি স্থায়ী হয় না।
যদি আপনার আয় ভালো হওয়া সত্ত্বেও বারবার আর্থিক টানাপোড়েন লেগেই থাকে, তা হলে একবার নিজের বাড়ির টাকা রাখার জায়গাগুলি ভালো করে খতিয়ে দেখুন। হয়তো খুব সাধারণ একটি বাস্তুভুলই আপনার সঞ্চয়ের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.