বাস্তুশাস্ত্রে বাড়ির মূল দরজাকে বলা হয় ‘সুখ ও সমৃদ্ধির প্রবেশদ্বার’। বিশ্বাস করা হয়, এই দরজা দিয়েই ঘরে প্রবেশ করে ইতিবাচক শক্তি ও দেবী লক্ষ্মীর কৃপা। তাই মূল দরজার অবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সরাসরি বাড়ির আর্থিক অবস্থা, মানসিক শান্তি এবং সৌভাগ্যের উপর প্রভাব ফেলে। অনেক সময় দেখা যায়, হাতে টাকা এলেও তা টেকে না—এর পিছনে বাড়ির প্রধান দরজার কিছু গুরুতর বাস্তুদোষ দায়ী হতে পারে।
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, বাড়ির মূল দরজার আশপাশ সবসময় পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। দরজার কাছে যদি ময়লা, আবর্জনা, স্যাঁতসেঁতে ভাব বা দুর্গন্ধযুক্ত কোনও জিনিস থাকে, তবে তা নেতিবাচক শক্তিকে আকর্ষণ করে। এর ফলস্বরূপ অপ্রয়োজনীয় খরচ বাড়ে, সঞ্চয় কমে যায় এবং বাড়িতে নানা সমস্যা দেখা দেয়। শাস্ত্র মতে, যেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নেই, সেখানে সুখ ও সমৃদ্ধি স্থায়ী হয় না।
এছাড়াও, ভাঙা, মরচে ধরা বা খোলার সময় শব্দ করা দরজাকে বাস্তুশাস্ত্রে অশুভ বলে মনে করা হয়। এই ধরনের দরজা ইতিবাচক শক্তির প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে এবং আর্থিক অগ্রগতিকে রুদ্ধ করতে পারে। তাই মূল দরজা সবসময় মজবুত, শব্দহীন ও ভালো অবস্থায় রাখা জরুরি।
আরেকটি বড় ভুল হল, দরজার সামনে জুতো বা চপ্পল রাখা। বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, দেবী লক্ষ্মী মূল দরজা দিয়েই ঘরে প্রবেশ করেন। দরজার সামনে জুতো-চপ্পল রাখা হলে তা সমৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। প্রবেশদ্বার যতটা সম্ভব খোলা ও বাধামুক্ত রাখা উচিত, যাতে ইতিবাচক শক্তি সহজেই ঘরে প্রবেশ করতে পারে।
আরও পড়ুন
জানুয়ারিতে চার দিনের চন্দ্র অস্ত: ২০২৬-এর শুরুতেই মেষ, তুলা ও কুম্ভ রাশির ভাগ্য খুলছে
সবশেষে, মূল দরজার আশপাশে অন্ধকার থাকা অত্যন্ত অশুভ বলে ধরা হয়। অন্ধকার নেতিবাচক শক্তিকে আকর্ষণ করে এবং আর্থিক উন্নতিতে বাধা সৃষ্টি করে। দরজার কাছে আলো কম থাকলে বা দীর্ঘদিন লাইট অচল থাকলে তা দ্রুত ঠিক করা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত আলো থাকলে ঘরে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
আরও পড়ুন
পৌষ অমাবস্যা কালীপুজো ২০২৬: মুলো নিবেদন থেকে মাহাত্ম্য—জেনে নিন সব নিয়ম ও বিশ্বাস
সব মিলিয়ে বলা যায়, বাড়ির মূল দরজায় ছোট ছোট এই বাস্তু ভুলগুলিই অনেক সময় আর্থিক অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আজই দরজার দিকে নজর দিন—হয়তো সেখান থেকেই আপনার জীবনে সমৃদ্ধির নতুন পথ খুলে যাবে।
আরও পড়ুন
১৭ ডিসেম্বর রাশিফল: কৃষ্ণা ত্রয়োদশী, বিশাখা নক্ষত্র ও সুকর্ম যোগে ভাগ্যে বদল কাদের?

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.