তাপমাত্রা যত বাড়ছে, ততই হাসপাতালগুলোতে পেটের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা চোখে পড়ার মতো বাড়ছে। ডায়েরিয়া, গ্যাস, অম্বল, পেটে ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে শুরু করে গুরুতর সংক্রমণ—এই সময়টায় নানা রকম উপসর্গ নিয়ে মানুষ চিকিৎসকের দ্বারস্থ হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের আবহাওয়া এই সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ। উচ্চ তাপমাত্রা খাবারের মধ্যে জীবাণুর বৃদ্ধি দ্রুততর করে তোলে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই খাবার নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং তা খেলে সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
কারা এই ‘ভিলেন’?
গ্রীষ্মকালে কিছু বিশেষ জীবাণু সক্রিয় হয়ে ওঠে, যেগুলি পেটের সমস্যার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
ই. কোলাই (E. coli)
সালমোনেল্লা
ভিব্রিও কলেরি (কলেরা জীবাণু)
রোটাভাইরাস
নোরোভাইরাস
অ্যাডেনোভাইরাস
এই সব জীবাণু মূলত দূষিত খাবার ও পানীয় জলের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং অন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর ফলে ‘ভাইরাল গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস’ নামে পরিচিত একটি অবস্থার সৃষ্টি হয়, যেখানে পেট খারাপ, বমি, জ্বর ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়।
জীবনযাপনও বড় কারণ
শুধু জীবাণু নয়, আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসও এই সমস্যাকে বাড়িয়ে তোলে।
অতিরিক্ত ঝাল, তেলযুক্ত খাবার
রাস্তার খাবারের প্রতি আকর্ষণ
অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া
পর্যাপ্ত জল না খাওয়া
এই সব কারণ অন্ত্রের ভাল ব্যাক্টেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়, ফলে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
জল থেকেও বড় বিপদ
গরমে তেষ্টা পেলে অনেকেই যেখান-সেখানে জল পান করেন। কিন্তু অপরিশোধিত বা দূষিত জল পেটের সংক্রমণের অন্যতম বড় উৎস। বিশেষ করে ভ্রমণের সময় এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
শিশু এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ধরনের সংক্রমণ বেশি গুরুতর হতে পারে। কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম থাকে, ফলে ডিহাইড্রেশন বা জলের ঘাটতি দ্রুত দেখা দিতে পারে।
কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?
১) পর্যাপ্ত জল পান
গরমে শরীরের জল কমে যায়। তাই সারাদিন পর্যাপ্ত জল পান করা জরুরি।
জিরে ভেজানো জল
মৌরি-মেথির জল
ডাবের জল
দইয়ের ঘোল
এসব পানীয় পেট ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
২) নিরাপদ পানীয় বেছে নিন
রাস্তার শরবত, লস্যি বা কাটাফল এড়িয়ে চলুন।
বাড়িতে জল ফুটিয়ে বা বিশুদ্ধ করে পান করুন।
৩) ডায়েরিয়ায় কী করবেন
ডায়েরিয়া হলে শরীর থেকে জল বেরিয়ে যায়। তাই—
ওআরএস খাওয়া জরুরি
ঘরোয়া নুন-চিনি-লেবুর জলও উপকারী
৪) বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন
সম্ভব হলে বাড়িতে তৈরি টাটকা খাবার খান। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।
৫) প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ
যদি ডায়েরিয়া বা বমি বেশি হয়, দুর্বলতা বাড়ে বা রক্তচাপ কমে যায়—তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান।
শেষ কথা
গরমকালে পেটের সমস্যা নতুন কিছু নয়, তবে সচেতনতা ও সতর্কতা থাকলে এই সমস্যাকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সঠিক খাবার ও নিরাপদ জল—এই তিনটি বিষয় মেনে চললেই সুস্থ থাকা সহজ।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.