পহেলগাঁও হামলার বার্ষিকী ঘিরে ফের তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক। দুই দেশের শীর্ষ প্রতিরক্ষা নেতৃত্বের কড়া বার্তা ও পাল্টা বার্তা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে।
সম্প্রতি কেরলে এক জনসভা থেকে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Rajnath Singh স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ভারত শান্তিপ্রিয় দেশ হলেও সীমান্তে কোনও ধরনের আঘাত বা উসকানি সহ্য করা হবে না। তিনি অতীতের সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, প্রয়োজনে ভারত কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভারতীয় সেনা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত।
এই মন্তব্যের পরেই প্রতিক্রিয়া জানায় পাকিস্তান। সে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Khawaja Asif বলেন, পাকিস্তান সর্বদাই শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পক্ষে। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে দ্রুত ও কঠোর জবাব দিতে দ্বিধা করবে না।
তিনি বার্তায় আরও লেখেন, দুটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে যুদ্ধের সম্ভাবনা অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে এবং তার পরিণতি গোটা অঞ্চলের জন্য মারাত্মক হবে। এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, উত্তেজনা শুধু কূটনৈতিক স্তরেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তার প্রভাব আরও গভীরে পৌঁছাতে পারে।
এদিকে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে দাবি করা হচ্ছে, ভারত নাকি সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের দিকে এগোতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রাক্তন হাইকমিশনার Abdul Basit এক বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন, যদি কোনও দেশ পাকিস্তানের উপর আক্রমন করে, তবে তার জবাবে চরম পদক্ষেপ নেওয়া উচিত—যা নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
অন্যদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে বারবারই জানানো হচ্ছে যে, তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। কিন্তু সেই সদিচ্ছাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা হলে তার কড়া জবাব দেওয়া হবে। সীমান্তে স্থিতিশীলতা নষ্ট করার যেকোনও প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে ভারত প্রস্তুত বলেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, পহেলগাঁও হামলার বার্ষিকী সামনে রেখে দুই দেশের এই বাগযুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য আদান-প্রদান কূটনৈতিক চাপ বাড়ালেও সরাসরি সংঘর্ষ এড়াতে উভয় পক্ষই শেষ পর্যন্ত সংযম দেখাবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.