টলিপাড়ার আকাশে এখনও শোকের ঘনঘটা। জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আকস্মিক প্রয়াণে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল একাধিক ধারাবাহিকের শুটিং ফ্লোর। তবে সময়ের নিয়মে থেমে থাকেনি কাজ—“শো মাস্ট গো অন” মন্ত্রে ভর করে আবারও আলো জ্বলেছে সেটে।

‘চিরসখা’য় ফিরল কাজের গতি
প্রযোজক জুটি লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়-এর প্রযোজনায় তৈরি ‘চিরসখা’ ধারাবাহিকের শুটিং কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে পুনরায় শুরু হয়েছে।
অভিনেত্রী শিঞ্জিনী চক্রবর্তী জানিয়েছেন, তিনি নিজেও আবার ক্যামেরার সামনে ফিরেছেন। তবে কাজ শুরু হলেও মন যেন এখনও ভারাক্রান্ত। সেটে কাজ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত মনে পড়ছে প্রয়াত সহঅভিনেতার কথা।
শুধু কাজ নয়, সহকর্মী হিসেবে রাহুলের উপস্থিতি ছিল আলাদা। তাঁর প্রাণখোলা হাসি, সহজ মিশুক স্বভাব—সব মিলিয়ে ফ্লোরে এক বিশেষ আবহ তৈরি করতেন তিনি, যা এখন শুধুই স্মৃতি।
‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ঘিরে অনিশ্চয়তা
অন্যদিকে, যে ধারাবাহিকের মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছিলেন রাহুল—‘ভোলেবাবা পার করেগা’, সেটি নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
ধারাবাহিকের অভিনেত্রী রেশমি সেনসহ একাধিক শিল্পী জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত শুটিং শুরুর বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে প্রযোজনা সংস্থার কোনো যোগাযোগ হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে—
👉 গল্প কি নতুনভাবে লেখা হবে?
👉 নাকি এই ধারাবাহিক বন্ধই হয়ে যাবে?
এই মুহূর্তে নির্মাতাদের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট কোনো ঘোষণা না আসায় জল্পনা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
পাশাপাশি দুটি ফ্লোর, এখন একটিতে নীরবতা
একই স্টুডিয়োর পাশাপাশি দুটি ফ্লোরে চলত ‘চিরসখা’ ও ‘ভোলেবাবা পার করেগা’-র শুটিং। একদিকে আবার কাজ শুরু হলেও অন্য ফ্লোরে এখনও নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা।
যেখানে একসময় রাহুলের হাসি-ঠাট্টায় মুখর থাকত পরিবেশ, সেখানে এখন শুধুই শূন্যতা। এই পরিবর্তন মানতে পারছেন না অনেক কলাকুশলীই। তাঁদের মতে, শুধুমাত্র একজন অভিনেতার অনুপস্থিতি নয়—একটা আবেগ, একটা সম্পর্ক যেন হারিয়ে গেছে।
কাজের চাপ বনাম ব্যক্তিগত শোক
টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিদিনের এপিসোড তৈরি বা ‘ব্যাঙ্কিং’-এর চাপ অত্যন্ত বেশি। সেই কারণেই ব্যক্তিগত শোক সত্ত্বেও দ্রুত কাজে ফিরতে হয়েছে ইউনিটকে।
তবুও, বাস্তবতা হল—ক্যামেরা চালু হলেও মন এখনও পড়ে আছে অতীতে। সেটের প্রতিটি কোণায় যেন রয়ে গেছে রাহুলের স্মৃতি।
শেষ কথা
‘চিরসখা’ আবার গতি পেলেও ‘ভোলেবাবা পার করেগা’-র ভবিষ্যৎ এখনও অন্ধকারে। টলিপাড়া এখন অপেক্ষায়—নতুন সিদ্ধান্তের, নতুন গল্পের, আর হয়তো এক কঠিন বাস্তবকে মেনে নেওয়ার।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.