গরম পড়তেই চুলের নানা সমস্যা যেন একসঙ্গে মাথাচাড়া দেয়। অতিরিক্ত ঘাম, ধুলোবালি, রোদ এবং দূষণের প্রভাবে চুল হয়ে ওঠে রুক্ষ, নিষ্প্রাণ কিংবা অতিরিক্ত তৈলাক্ত। কারও মাথার ত্বকে দেখা দেয় খুশকি, কারও আবার চুল পড়া বা ডগা ফেটে যাওয়ার সমস্যা বেড়ে যায়। শুধু শ্যাম্পু বা সাধারণ তেল ব্যবহার করলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলের ধরন বুঝে সঠিক এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করলে গরমের এই সমস্যাগুলি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
এসেনশিয়াল অয়েল হল উদ্ভিদের ফুল, পাতা, শিকড় বা ছাল থেকে তৈরি ঘন নির্যাস। এতে থাকে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল, অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল এবং পুষ্টিকর উপাদান, যা মাথার ত্বক সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে নতুন চুল গজাতেও সহায়তা করে।
তৈলাক্ত ও ঘামে ভেজা চুলের জন্য

গরমে যাঁদের মাথায় বেশি ঘাম হয়, তাঁদের চুল খুব দ্রুত চিটচিটে হয়ে যায়। অনেক সময় মাথার ত্বকে দুর্গন্ধও তৈরি হয়। এই সমস্যায় টি-ট্রি এবং লেমনগ্রাস এসেনশিয়াল অয়েল উপকারী হতে পারে। নারকেল তেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা টি-ট্রি ও লেমনগ্রাস অয়েল মিশিয়ে মাথার ত্বকে মালিশ করলে অতিরিক্ত তেলভাব কমে এবং মাথা দীর্ঘক্ষণ সতেজ থাকে। সপ্তাহে অন্তত দু’দিন ব্যবহার করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।
শুষ্ক ও রুক্ষ চুলে
প্রখর রোদে চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে চুল হয়ে ওঠে খসখসে এবং জট পড়ার প্রবণতা বাড়ে। এমন চুলের জন্য ল্যাভেন্ডার ও জেরেনিয়াম অয়েল কার্যকর। অলিভ অয়েল বা ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে এই দুই তেল মিশিয়ে মাথায় মালিশ করলে চুলের হারানো উজ্জ্বলতা ফিরতে পারে। গরম তোয়ালে দিয়ে কিছুক্ষণ চুল ঢেকে রাখলে তেল আরও ভাল ভাবে কাজ করে।
চুল পড়া ও ডগা ফাটার সমস্যায়
অতিরিক্ত রোদ ও দূষণের কারণে চুলের ডগা ফেটে যাওয়া এখন খুব সাধারণ সমস্যা। এর সঙ্গে চুল পড়াও বেড়ে যায়। রোজ়মেরি ও পেপারমিন্ট এসেনশিয়াল অয়েলের মিশ্রণ এই সমস্যায় উপকারী হতে পারে। নারকেল বা অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে মাথায় ব্যবহার করলে চুলের গোড়া মজবুত হয়। পেপারমিন্টের শীতল অনুভূতি গরমে আরামও দেয়।
খুশকি ও চুলকানিতে
গরমে ঘাম জমে মাথার ত্বকে ছত্রাকের সংক্রমণ বাড়তে পারে। ফলে খুশকি ও চুলকানির সমস্যা আরও তীব্র হয়। এই ক্ষেত্রে ইউক্যালিপটাস ও টি-ট্রি অয়েল বেশ কার্যকর। নারকেল বা ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে মাথার তালুতে লাগালে খুশকি কমতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহারে মাথার ত্বকও পরিষ্কার থাকে।
তবে এসেনশিয়াল অয়েল সরাসরি মাথার ত্বকে ব্যবহার না করাই ভাল। সব সময় কোনও ক্যারিয়ার অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি নতুন কোনও তেল ব্যবহারের আগে অ্যালার্জি পরীক্ষা করে নেওয়াও জরুরি।