বিশ্বজুড়ে নানা অদ্ভুত ঘটনা মাঝেমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। তবে সম্প্রতি থাইল্যান্ডে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে ঘিরে চর্চা যেন থামছেই না। কারণ এখানে বাড়ি, গাড়ি বা আসবাব নয়—একজন মহিলা নাকি নিজের স্বামীকেই ভাড়ায় দিয়েছেন। আর সেই বাবদ প্রতি মাসে পাচ্ছেন প্রায় ৮৫ হাজার টাকা (ভারতীয় মুদ্রায়)।
কীভাবে শুরু হল এই ঘটনা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একদিন হঠাৎই ওই মহিলা তাঁর স্বামীকে পরকীয়া করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে দাম্পত্য কলহ, বিচ্ছেদ বা আইনি লড়াইয়ের মতো বিষয় সামনে আসে। অনেক ক্ষেত্রেই ডিভোর্স বা অ্যালিমনির প্রসঙ্গ ওঠে।
কিন্তু এই মহিলা সেই পথে হাঁটেননি। বরং তিনি এমন একটি সিদ্ধান্ত নেন, যা শুনে অনেকেই অবাক হয়ে গেছেন।
অদ্ভুত কিন্তু আলোচিত সিদ্ধান্ত
স্বামীর সঙ্গে যার সম্পর্ক ছিল, সেই মহিলার কাছেই তিনি স্বামীকে “ভাড়ায়” দেওয়ার প্রস্তাব দেন। শর্ত ছিল—প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে হবে।
শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাব মানা হয় এবং ঠিক হয় মাসে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা (ভারতীয় মুদ্রায়) দিতে হবে। এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় পুরো ঘটনাটি।
ভাইরাল হওয়ার আরেক কারণ
ঘটনাটি শুধু অদ্ভুত বলেই নয়, বরং এই সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন, এটি এক ধরনের অভিনব শাস্তি। আবার কেউ মনে করছেন, পরিস্থিতিকে নিজের মতো করে সামলানোর একটি অদ্ভুত কিন্তু বাস্তববাদী উপায় বেছে নিয়েছেন ওই মহিলা।
একদিকে স্বামীর সম্পর্ক প্রকাশ্যে চলে এসেছে, অন্যদিকে তিনি আর্থিক লাভও পাচ্ছেন—এই বিষয়টিই অনেকের কাছে বিস্ময়ের কারণ।
মানুষের প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনাকে ঘিরে মানুষের প্রতিক্রিয়া কিন্তু একেবারেই একরকম নয়।
অনেকেই বলছেন, বিষয়টি খুবই অদ্ভুত এবং সম্পর্কের মর্যাদার সঙ্গে মানানসই নয়।
আবার কেউ কেউ মনে করছেন, প্রতারণার পর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ভুল নয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে নানা মতামত দেখা যাচ্ছে।
অন্য দেশেও এমন ধারণা আছে?
শুধু এই ঘটনাই নয়, বিশ্বের কিছু জায়গায় “ভাড়ায় স্বামী” ধারণা নিয়ে আগেও আলোচনা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে লাটভিয়ার কথা বলা হয়, যেখানে পুরুষের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে কাউকে স্বামীর ভূমিকায় ভাড়া করার বিষয়টি জনপ্রিয় হয়েছে বলে জানা যায়।
সেখানে সাধারণত কয়েক ঘণ্টার জন্য একজন পুরুষকে বুক করা হয়। তিনি গিয়ে বাড়ির বিভিন্ন কাজ বা সামাজিক অনুষ্ঠানে সঙ্গ দেওয়ার মতো ভূমিকা পালন করেন। এটি অনেক সময় অনলাইনের মাধ্যমে বুক করা হয়।
শেষ কথা
থাইল্যান্ডের এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, সম্পর্ক ভাঙনের পরিস্থিতিতে মানুষ কখনও কখনও একেবারেই অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে পারেন। কেউ এটিকে মজার ঘটনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে সামাজিক বাস্তবতার অন্য দিক হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই অদ্ভুত সিদ্ধান্তের গল্প এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.