ভারতীয় সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তি শিল্পী Asha Bhosle-এর জীবন যেমন সাফল্যে ভরা, তেমনই ব্যক্তিগত জীবনে রয়েছে গভীর বেদনার ছাপ। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় আঘাতগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল মেয়ে বর্ষা ভোঁসলের অকাল মৃত্যু।
আশা ভোঁসলে জীবনে দু’বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর প্রথম স্বামী ছিলেন গণপতরাও ভোঁসলে, আর দ্বিতীয়বার তিনি বিয়ে করেন সঙ্গীত পরিচালক Rahul Dev Burman-কে। প্রথম দাম্পত্য থেকেই তাঁর তিন সন্তান—হেমন্ত, বর্ষা ও আনন্দ। দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে তাঁর কোনও সন্তান হয়নি।
বিয়ের পর একসময় সন্তানদের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হলেও, পরে সেই সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। কিন্তু জীবনের নানা টানাপোড়েন তাঁর পরিবারকে বারবার আঘাত করেছে। বড় ছেলে হেমন্ত ক্যানসারে মারা যান, আর তার কিছু বছর পরেই ঘটে আরও ভয়াবহ ঘটনা।

২০১২ সালে, ৫৬ বছর বয়সে আশার মেয়ে বর্ষা নিজের জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন। পেশায় তিনি ছিলেন লেখিকা ও সাংবাদিক—সংবেদনশীল ও মেধাবী একজন মানুষ। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের অশান্তি তাঁকে ভিতর থেকে ভেঙে দিচ্ছিল বলে জানা যায়।
ঘটনার সময় Asha Bhosle সিঙ্গাপুরে একটি অনুষ্ঠানে ব্যস্ত ছিলেন। সেই সুযোগেই নিজের বাড়িতে রাখা পিস্তল ব্যবহার করে আত্মঘাতী হন বর্ষা। পরে গাড়িচালক বাড়িতে এসে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় সোফায় পড়ে থাকতে দেখেন। এই মর্মান্তিক খবর পৌঁছতেই স্তম্ভিত হয়ে পড়েন আশা। দ্রুত সিঙ্গাপুর থেকে মুম্বইয়ে ফিরে আসেন তিনি।

পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, দাম্পত্য জীবনের অশান্তি এবং দীর্ঘদিনের মানসিক অবসাদ বর্ষাকে এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছিল। এই ঘটনার অভিঘাত এতটাই গভীর ছিল যে, আশার দিদি কিংবদন্তি শিল্পী Lata Mangeshkar-ও দীর্ঘদিন ধরে এই শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি।
এক সাক্ষাৎকারে আশাও আবেগঘন কণ্ঠে জানিয়েছিলেন, মেয়ের মৃত্যুর খবর হয়তো তাঁর দিদিকে না জানানোই ভালো হত। তবু, এক অদ্ভুত বিশ্বাসে তিনি বলেন—একদিন আবার তাঁর সঙ্গে দেখা হবে বর্ষার।
এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব এবং পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতার এক নির্মম প্রতিচ্ছবি।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.