ব্যস্ত জীবন, দীর্ঘক্ষণ অফিসের কাজ, মানসিক চাপ কিংবা অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণে অনেকেই এখন ভুলে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মনে রাখতে অসুবিধা হচ্ছে, কাজে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেকেই এর জন্য অতিরিক্ত চাপ বা বয়সকে দায়ী করেন। অথচ এর নেপথ্যে থাকতে পারে অত্যন্ত সাধারণ একটি কারণ— শরীরে পর্যাপ্ত জলের অভাব।
কেন জল কম খেলেই মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমে?
মানবদেহের বড় অংশই জল দিয়ে গঠিত। তাই শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দিলে শুধু কিডনি বা ত্বক নয়, তার প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কের উপরও। পর্যাপ্ত তরল না থাকলে মস্তিষ্কের কোষগুলির মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের গতি কমে যায়। ফলে চিন্তাভাবনা, মনোযোগ, সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং স্মৃতিশক্তি— সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের ওজনের প্রায় ২ শতাংশ জল কমে গেলেও মানসিক কর্মক্ষমতায় তার প্রভাব দেখা দিতে শুরু করে। তাই দীর্ঘক্ষণ কাজের মধ্যে থাকলে বা গরমে বাইরে থাকলে নিয়মিত জল পান করা অত্যন্ত জরুরি।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
*দীর্ঘক্ষণ ডেস্কে বসে কাজ করেন যাঁরা
*যাঁদের নিয়মিত বাইরে ঘুরে কাজ করতে হয়
*কম জল খেয়ে বারবার চা বা কফি পান করেন
*অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া ও অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকেন
এই অভ্যাসগুলি দীর্ঘদিন চলতে থাকলে ধীরে ধীরে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা তৈরি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে নানা শারীরিক জটিলতার ঝুঁকিও বাড়ায়।
কীভাবে বুঝবেন শরীরে জলের ঘাটতি হচ্ছে?
১. অতিরিক্ত পিপাসা লাগা
পিপাসা পাওয়া ডিহাইড্রেশনের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ। তবে তৃষ্ণা অনুভব করার আগেই শরীরে জলের ঘাটতি শুরু হয়ে যেতে পারে। তাই তৃষ্ণার অপেক্ষা না করে নিয়মিত জল পান করা উচিত।
২. প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া
হালকা হলুদ বা স্বচ্ছ প্রস্রাব সাধারণত পর্যাপ্ত জলপানের ইঙ্গিত দেয়। যদি রং গাঢ় হলুদ বা অ্যাম্বার হয়ে যায়, তাহলে শরীরে জলের অভাব থাকতে পারে।
৩. চামড়ার স্থিতিস্থাপকতা পরীক্ষা
হাতের পেছনের অংশ বা পেটের চামড়া হালকা করে চিমটি কেটে কয়েক সেকেন্ড পরে ছেড়ে দিন। যদি সঙ্গে সঙ্গে আগের অবস্থায় ফিরে আসে, তবে সাধারণত শরীরে জলের ভারসাম্য ঠিক আছে। কিন্তু চামড়া যদি কিছুক্ষণ কুঁচকে থাকে বা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়, তবে তা ডিহাইড্রেশনের ইঙ্গিত হতে পারে। তবে বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষা সব সময় নির্ভরযোগ্য নয়।
সুস্থ থাকতে কী করবেন?
*সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন।
*শুধু পিপাসা পেলেই নয়, নির্দিষ্ট সময় অন্তর জল খাওয়ার অভ্যাস করুন।
*অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে সাধারণ জল বা ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় বেছে নিন।
*গরমে বা ব্যায়ামের পরে জলপানের পরিমাণ বাড়ান।
*ফল, শাকসবজি ও জলসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন।
শেষ কথা
ভুলে যাওয়া বা মনোযোগ কমে যাওয়া সব সময় বড় কোনও স্নায়ুরোগের লক্ষণ নয়। অনেক ক্ষেত্রেই শরীরে জলের ঘাটতির মতো সাধারণ কারণ এর জন্য দায়ী হতে পারে। তাই সুস্থ মস্তিষ্ক ও কর্মক্ষম শরীরের জন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল পান করার অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায়।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.