ভারতের সীমান্তবর্তী লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানি অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও নেপালের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। নেপাল এই এলাকাগুলোকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে। তবে সেই দাবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে যে ১৮১৬ সালের সগৌলি চুক্তির কথা বলা হয়, তার মূল নথি নেপাল সরকারের কাছে আদৌ রয়েছে কি না—এখন সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খনাল সম্প্রতি সংসদে জানিয়েছেন, সগৌলি চুক্তির আসল নথিপত্র নেপাল সরকারের কাছে রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ন্যাশনাল আর্কাইভে চুক্তি-সংক্রান্ত কিছু নথি রয়েছে। কিন্তু সেগুলোর মধ্যে সগৌলি চুক্তির মূল বা আসল নথি কোনটি, তা স্পষ্ট নয়।
১৮১৪ থেকে ১৮১৬ সাল পর্যন্ত ইঙ্গ-নেপাল যুদ্ধের পর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও নেপালের মধ্যে শান্তিচুক্তি হিসেবে সগৌলি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে সীমারেখা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। চুক্তিতে কালী নদীকে ভারতীয় ও নেপালি ভূখণ্ডের সীমা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মূল বিরোধ তৈরি হয় কালী নদীর প্রকৃত উৎস কোথায়—তা নিয়ে।
নেপালের দাবি, কালী নদীর প্রকৃত উৎস লিম্পিয়াধুরা অঞ্চলে। সেই যুক্তির ভিত্তিতে লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি এবং লিপুলেখকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে কাঠমাণ্ডু। অন্যদিকে ভারতের অবস্থান, কালী নদীর উৎস লিপুলেখের নিচের দিকের একটি অঞ্চল থেকে। সেই ব্যাখ্যা অনুযায়ী কালাপানি-সহ সংশ্লিষ্ট বিস্তীর্ণ এলাকা ভারতের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত।
অর্থাৎ, দুই দেশের বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে শুধু একটি সীমান্তরেখা নয়, বরং কালী নদীর উৎস নির্ধারণের প্রশ্নও। ২০২০ সালের জুনে নেপাল নতুন একটি রাজনৈতিক মানচিত্র প্রকাশ করে। সেই মানচিত্রে লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানিকে নেপালের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দেখানো হয়। ভারত এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করে। এরপর থেকেই বিষয়টি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক সময়ে লিপুলেখ গিরিপথ নিয়ে চিন ও ব্রিটেনের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশের পর নেপালের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তাহলে প্রমাণ কোথায়?
নেপালের বিদেশমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর মূল প্রশ্নটি আরও জোরালো হয়েছে—সগৌলি চুক্তির মূল নথি যদি নেপালের কাছেই নিশ্চিতভাবে না থাকে, তাহলে সীমান্ত-দাবির ঐতিহাসিক ভিত্তি যাচাই করা হবে কীভাবে? তবে শুধু মূল নথি না পাওয়া যাওয়াই নেপালের দাবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভুল প্রমাণ করে না। ঐতিহাসিক সীমান্ত নির্ধারণে চুক্তির পাশাপাশি পরবর্তী প্রশাসনিক নথি, মানচিত্র, নদীর গতিপথ, সংশ্লিষ্ট পক্ষের সরকারি রেকর্ড এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ব্যবহারের মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তাই সগৌলি চুক্তির মূল নথি নিয়ে নেপাল সরকারের বক্তব্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, লিপুলেখ-কালাপানি-লিম্পিয়াধুরা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আরও বিস্তৃত ঐতিহাসিক ও আইনি নথি পর্যালোচনা প্রয়োজন।
সীমান্ত বিরোধের কেন্দ্রে তাই এখন শুধু “কার ভূখণ্ড?” প্রশ্ন নয়—বরং “ঐতিহাসিক নথির নির্ভরযোগ্য প্রমাণ কোথায়?” প্রশ্নটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.