২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে এ বছর কলকাতার রেড রোডে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অনুষ্ঠানে বহু মানুষের উপস্থিতির পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আবার নিজ নিজ ক্যাম্পাসে যোগ দিবস পালন করে তার ভিডিও জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে যোগচর্চা এবং যোগশিক্ষা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ যোগব্যায়াম আজ শুধুমাত্র শরীরচর্চা নয়, সুস্থ জীবনযাপনের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। আধুনিক জীবনযাত্রায় মানসিক চাপ, স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা জীবনধারাজনিত সমস্যার মোকাবিলায় যোগের উপকারিতা নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে। আর সেই কারণেই যোগবিজ্ঞানকে কেন্দ্র করে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে।
যোগবিজ্ঞান পড়ার যোগ্যতা
উচ্চ মাধ্যমিক বা দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার পর যোগবিজ্ঞান নিয়ে উচ্চশিক্ষা শুরু করা যায়। যে কোনও বিভাগের ছাত্রছাত্রী এই বিষয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। তবে এই কোর্সে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অনেক বেশি। নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন ও বিভিন্ন যোগাসনের চর্চা করতে হয় বলে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা প্রয়োজন।
কোন কোন কোর্স করা যায়?
উচ্চ মাধ্যমিকের পরে যোগবিজ্ঞান নিয়ে স্নাতক স্তরে বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে—
– ব্যাচেলর অফ সায়েন্স (বিএসসি) ইন যোগ
– ব্যাচেলর অফ আর্টস (বিএ) ইন যোগ
– মাস্টার অফ সায়েন্স (এমএসসি) ইন যোগ
– মাস্টার অফ আর্টস (এমএ) ইন যোগ
– পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন যোগ থেরাপি
– পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন যোগ এডুকেশন
– ডিপ্লোমা ইন যোগ সায়েন্স
– ডিপ্লোমা ইন স্পোর্টস কোচিং
– বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি সার্টিফিকেট কোর্স
ভারতের আয়ুষ মন্ত্রকও যোগশিক্ষার জন্য একাধিক ডিগ্রি, ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেশন কোর্স পরিচালনা করে থাকে।
কোথায় পড়া যাবে?
পশ্চিমবঙ্গের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্বভারতী, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এই বিষয়ে পাঠদান করা হয়।
চাকরির সুযোগ কতটা?
বর্তমানে যোগ বিশেষজ্ঞদের চাহিদা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করার পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ তৈরি হয়। যেমন—
– স্কুল, কলেজ বা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যোগ প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ
– ব্যক্তিগতভাবে যোগ ক্লাস বা ওয়েলনেস সেন্টার পরিচালনা
– হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগ থেরাপিস্ট হিসেবে কাজ
– ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান ও ফিটনেস সেক্টরে যোগ প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মসংস্থান
– আয়ুষ মন্ত্রক, ক্রীড়া দফতর এবং বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পে যোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে চাকরির সুযোগ
সুস্থ জীবনযাপন সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা যত বাড়ছে, যোগবিজ্ঞানের গুরুত্বও তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে যারা স্বাস্থ্য, ফিটনেস এবং সামগ্রিক সুস্থতার ক্ষেত্রকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে চান, তাঁদের জন্য যোগবিজ্ঞান বর্তমানে একটি সম্ভাবনাময় ও ক্রমবর্ধমান কর্মক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.
