Lifestyle: নীরবে মেরুদণ্ডে বাসা বাঁধে কর্ডোমা, বিরল হাড়ের ক্যানসারে ঝাপসা হতে পারে দৃষ্টিশক্তিও

ক্যানসার সাধারণত ফুসফুস, স্তন, লিভার বা রক্তের মতো অঙ্গের সঙ্গে বেশি জড়িত বলে মনে করা হয়। কিন্তু হাড়েও ক্যানসার হতে পারে, যদিও সেই ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। হাড়ের ক্যানসারের এমনই একটি অতি বিরল ধরন হল ‘কর্ডোমা’, যা মূলত মেরুদণ্ড ও খুলির গোড়ার অংশে দেখা যায়। রোগটি এতটাই অস্বাভাবিক যে বহু ক্ষেত্রেই প্রথম দিকে তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্ডোমা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। তবে এর অবস্থান অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় এটি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু ও হাড়ের কাঠামোর উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে রোগীর দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

কী এই কর্ডোমা?

Lifestyle: নীরবে মেরুদণ্ডে বাসা বাঁধে কর্ডোমা, বিরল হাড়ের ক্যানসারে ঝাপসা হতে পারে দৃষ্টিশক্তিও
Lifestyle: নীরবে মেরুদণ্ডে বাসা বাঁধে কর্ডোমা, বিরল হাড়ের ক্যানসারে ঝাপসা হতে পারে দৃষ্টিশক্তিও

ভ্রূণ অবস্থায় মানুষের শরীরে ‘নোটোকর্ড’ নামে একটি কাঠামো তৈরি হয়, যা পরবর্তীকালে মেরুদণ্ড গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণত জন্মের আগেই নোটোকর্ডের অধিকাংশ কোষ বিলীন হয়ে যায়। তবে কিছু কোষ শরীরের নির্দিষ্ট অংশে থেকে যেতে পারে। গবেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে অজ্ঞাত কারণে সেই অবশিষ্ট কোষগুলির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি শুরু হলে কর্ডোমা তৈরি হতে পারে।

কোথায় দেখা যায় এই ক্যানসার?
কর্ডোমা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় মেরুদণ্ডের নীচের অংশে, বিশেষ করে কোমরের নিচের অঞ্চলে। তবে খুলির গোড়া, ঘাড় বা মেরুদণ্ডের মাঝামাঝি অংশেও এই টিউমার তৈরি হতে পারে। রোগটি বাড়তে থাকলে আশপাশের হাড় ও স্নায়ুর উপর চাপ সৃষ্টি করে নানা জটিলতা তৈরি করে।

কেন শনাক্ত করা কঠিন?
কর্ডোমার অন্যতম বড় সমস্যা হল এর উপসর্গগুলি খুব সাধারণ রোগের মতো মনে হয়। প্রথম দিকে রোগীরা পিঠ, ঘাড় বা কোমরে ব্যথা অনুভব করতে পারেন। অনেকেই এটিকে বয়সজনিত সমস্যা, স্পন্ডিলাইটিস বা সাধারণ পেশির ব্যথা বলে ধরে নেন। ফলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে দেরি হয়।

রোগের অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন—
*দীর্ঘদিনের ঘাড় বা পিঠের ব্যথা
*মাথা যন্ত্রণা বা মাথা ঘোরা
*কাঁধে অস্বস্তি
*হাত-পায়ে দুর্বলতা
*স্নায়বিক সমস্যা
*চলাফেরায় অসুবিধা

দৃষ্টিশক্তির উপরও প্রভাব ফেলতে পারে
যদি কর্ডোমা খুলির গোড়ার অংশে তৈরি হয়, তাহলে এটি গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ুগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে মুখের পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া, মুখের একাংশ অবশ হয়ে পড়া কিংবা দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে চোখের নড়াচড়া বা মুখের স্বাভাবিক কার্যকারিতাও ব্যাহত হতে পারে।

পক্ষাঘাতের ঝুঁকি কেন বাড়ে?
কর্ডোমা বড় হতে থাকলে মেরুদণ্ডের হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সামান্য আঘাতেও ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পাশাপাশি স্নায়ুর উপর চাপ বাড়তে থাকলে রোগীর পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।

চিকিৎসা কতটা জটিল?
কর্ডোমার চিকিৎসা রোগীর অবস্থা, টিউমারের আকার ও অবস্থানের উপর নির্ভর করে। সাধারণত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণের চেষ্টা করা হয়। তবে মেরুদণ্ড ও স্নায়ুর কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এই অস্ত্রোপচার অত্যন্ত জটিল হতে পারে।
অনেক ক্ষেত্রেই অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি রেডিয়েশন থেরাপির প্রয়োজন হয়। রোগীর চিকিৎসায় নিউরোসার্জন, অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ, ক্যানসার বিশেষজ্ঞ এবং রেডিয়েশন চিকিৎসকদের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন হয়।

পুনরায় ফিরে আসার আশঙ্কা
কর্ডোমার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল চিকিৎসার পরেও এটি পুনরায় দেখা দিতে পারে। তাই অস্ত্রোপচার বা থেরাপির পর নিয়মিত ফলো-আপ, স্ক্যান এবং চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।

সচেতনতার গুরুত্ব
কর্ডোমা অত্যন্ত বিরল হলেও দীর্ঘদিনের অকারণ পিঠ, ঘাড় বা কোমরের ব্যথাকে অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে যদি ব্যথার সঙ্গে স্নায়বিক সমস্যা, চলাফেরার অসুবিধা বা দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। দ্রুত রোগ নির্ণয় হলে চিকিৎসার সাফল্যের সম্ভাবনাও অনেকটাই বৃদ্ধি পায়।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক