গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত ঘাম, ধুলোবালি ও আর্দ্রতার কারণে মাথার ত্বক এবং চুলের উপর বাড়তি চাপ পড়ে। এর ফলে অনেকেরই চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায়, চুল ঝরে এবং রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ দেখাতে শুরু করে। নিয়মিত যত্নের পাশাপাশি ঘরোয়া কিছু হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করলে চুলে আর্দ্রতা বজায় রাখা এবং কোমলতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য মিলতে পারে।
শসা ও অলিভ অয়েলের হেয়ার মাস্ক
শসা প্রাকৃতিকভাবে শীতলকারী এবং চুলে সতেজ অনুভূতি এনে দিতে পারে। একটি শসা কুচি করে সামান্য অলিভ অয়েলের সঙ্গে ব্লেন্ড করে পেস্ট তৈরি করুন। প্রথমে গরম তোয়ালের স্টিম কয়েক মিনিট নিলে মাথার ত্বক প্রস্তুত হয়। এরপর পেস্টটি চুলে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে চুলের শুষ্কভাব কিছুটা কমতে পারে।

ল্যাভেন্ডার ও জেরেনিয়াম অয়েলের প্যাক
রুক্ষ ও প্রাণহীন চুলের জন্য অলিভ বা ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার এবং জেরেনিয়াম এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে মাথার ত্বকে আলতোভাবে মালিশ করা যেতে পারে। এরপর গরম তোয়ালে দিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ঢেকে রেখে শ্যাম্পু করে নিন। সপ্তাহে এক বা দু’বার ব্যবহার করলে চুল আরও নরম ও উজ্জ্বল দেখাতে পারে।
দই, মধু ও ডিমের পুষ্টিকর মাস্ক
দই চুলে প্রাকৃতিক কন্ডিশনারের কাজ করতে পারে, মধু আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং ডিমে থাকা প্রোটিন চুলের পুষ্টি জোগাতে ভূমিকা রাখে। একটি ডিম ফেটিয়ে তার সঙ্গে ছয় চামচ দই ও দুই চা চামচ মধু মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করুন। ২০ মিনিট চুলে রেখে হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
গরমে চুলের যত্নে আরও কিছু পরামর্শ
*মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখতে নিয়মিত শ্যাম্পু করুন।
*পর্যাপ্ত পানি পান করে শরীরকে আর্দ্র রাখুন।
*ভেজা চুল শক্ত করে বেঁধে রাখবেন না।
*অতিরিক্ত হিট স্টাইলিং এড়িয়ে চলুন।
*সুষম খাদ্য ও পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ করলে চুলের স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ঘরোয়া উপাদানে তৈরি এই হেয়ার মাস্কগুলি চুলের যত্নে সহায়ক হতে পারে। তবে যদি দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল পড়া, মাথার ত্বকে চুলকানি বা অন্য কোনও সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে ত্বক ও চুল বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.