আমাদের দৈনন্দিন জীবনে রেফ্রিজারেটর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গৃহস্থালি যন্ত্র। দুধ, ফলমূল, শাকসবজি থেকে শুরু করে রান্না করা খাবার—সবকিছুই নিরাপদ রাখতে আমরা ফ্রিজের উপর নির্ভর করি। কিন্তু খুব কম মানুষই মনে রাখেন যে রেফ্রিজারেটরেরও একটি নির্দিষ্ট আয়ু থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত একটি হোম রেফ্রিজারেটর ১০ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত ভালোভাবে কাজ করে। কিছু উন্নত মানের মডেল আরও কিছুটা বেশি সময় চললেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর শীতলতা ধরে রাখার ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায়। সমস্যা হলো, ফ্রিজ হঠাৎ করে নষ্ট না হয়ে আগে থেকেই কিছু সতর্ক সংকেত দিতে শুরু করে। সেগুলো উপেক্ষা করলে তা শুধু খাবার নষ্টই নয়, মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং এমনকি দুর্ঘটনার কারণও হতে পারে।
আজকাল পুরোনো বা ত্রুটিপূর্ণ রেফ্রিজারেটর থেকে আগুন লাগা বা বিস্ফোরণের খবরও সামনে আসছে। তাই সময় থাকতেই লক্ষণগুলো চিনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
১. খাবার দ্রুত নষ্ট হতে শুরু করা
যদি লক্ষ্য করেন দুধ আগের মতো টাটকা থাকছে না, শাকসবজি দ্রুত পচে যাচ্ছে বা রান্না করা খাবার এক-দু’দিনের মধ্যেই দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে—তাহলে বুঝতে হবে ফ্রিজের ভিতরের তাপমাত্রা ঠিকভাবে বজায় থাকছে না।
রেফ্রিজারেটরের মূল কাজই হলো খাবার নিরাপদ রাখা। এই ক্ষমতা কমে গেলে নষ্ট খাবার সরাসরি আপনার পেট ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে।
২. ভেতরে অতিরিক্ত বরফ বা জল জমা
পুরোনো ফ্রিজে ফ্রিজারের ভিতরে অস্বাভাবিক পরিমাণে বরফ জমা হওয়া খুবই সাধারণ সমস্যা। বারবার ডিফ্রস্ট করতে হলে সেটি বড় সতর্কবার্তা।
এছাড়াও, ফ্রিজের ভিতর থেকে জল পড়া বা নিচে জল জমে থাকাও শীতলীকরণ ব্যবস্থার ত্রুটির ইঙ্গিত দেয়।
৩. অদ্ভুত শব্দ ও অতিরিক্ত গরম হওয়া
ফ্রিজ যদি হঠাৎ করে জোরে শব্দ করতে শুরু করে, মোটর থেকে অস্বাভাবিক আওয়াজ আসে বা পিছনের অংশ খুব গরম হয়ে যায়—তাহলে বুঝতে হবে কম্প্রেসারের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।
পুরোনো যন্ত্র ঠান্ডা রাখতে বেশি পরিশ্রম করে, যার ফলেই এই সমস্যা দেখা দেয়।
৪. বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া
অন্য সব বৈদ্যুতিক যন্ত্র একই থাকলেও যদি বিদ্যুৎ বিল ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, তাহলে দায়ী হতে পারে আপনার পুরোনো ফ্রিজ। নতুন ফ্রিজের তুলনায় পুরোনো রেফ্রিজারেটর অনেক বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে।
আজকাল স্মার্ট সকেট বা অ্যাপ ব্যবহার করে আলাদা করে বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব রাখাও সম্ভব।
কী করবেন?
এই লক্ষণগুলোর একাধিক যদি আপনার ফ্রিজে দেখা যায়, তাহলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ দিয়ে পরীক্ষা করান। প্রয়োজন হলে মেরামত করুন, আর সমস্যা গুরুতর হলে নতুন এনার্জি-এফিসিয়েন্ট রেফ্রিজারেটর কেনার সিদ্ধান্ত নিন।
মনে রাখবেন, সময়মতো ফ্রিজ বদলানো মানে শুধু টাকা সাশ্রয় নয়—এটি আপনার ও পরিবারের সুস্বাস্থ্যের সুরক্ষাও নিশ্চিত করে।