শরীরচর্চাকারী, জিমপ্রেমী কিংবা ক্রীড়াবিদদের একাংশের মধ্যে এখনও কাঁচা ডিম খাওয়ার প্রবণতা চোখে পড়ে। তাঁদের অনেকেরই বিশ্বাস, ডিম রান্না করলে তাপের কারণে প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই কাঁচা ডিম খেলেই শরীর বেশি উপকার পায়—এমন ধারণা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। তবে আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা এই ধারণাকে একেবারেই ভিত্তিহীন এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচা ডিম নয়, বরং রান্না করা ডিম থেকেই শরীর বেশি পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করতে পারে। নোয়েডার ‘নিদান মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার’-এর শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ রাজীব রঞ্জন জানান, ডিম সেদ্ধ বা রান্না করে খেলে শরীর প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত প্রোটিন শোষণ করতে সক্ষম হয়। কিন্তু কাঁচা ডিম খেলে এই শোষণের হার নেমে আসে মাত্র ৫০ শতাংশে। অর্থাৎ, কাঁচা ডিম খাওয়ার ফলে ডিমের অর্ধেক প্রোটিন কার্যত শরীরের কোনও কাজে আসে না।
এর পাশাপাশি রয়েছে গুরুতর সংক্রমণের আশঙ্কা। কাঁচা ডিমে ‘সালমোনেলা’ নামের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকার সম্ভাবনা থাকে, যা ফুড পয়জনিংয়ের অন্যতম কারণ। এর ফলে ডায়রিয়া, বমি, পেটব্যথা এবং জ্বরের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশু, বৃদ্ধ ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ আরও ভয়ংকর হতে পারে।
কাঁচা ডিমের আরেকটি বড় সমস্যা হল এতে থাকা ‘অ্যাভিডিন’ নামক একটি বিশেষ প্রোটিন। এই অ্যাভিডিন শরীরে ভিটামিন বি৭ বা বায়োটিন শোষণে বাধা সৃষ্টি করে। বায়োটিনের অভাবে চুল পড়া, ত্বকের সমস্যা এবং নখ ভেঙে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। ডিম রান্না করলে এই অ্যাভিডিন নষ্ট হয়ে যায়, ফলে বায়োটিন সহজেই শরীর গ্রহণ করতে পারে।
এছাড়াও কাঁচা ডিম খেলে অনেকেরই বমি বমি ভাব, গ্যাস, বদহজম এবং পেট ফাঁপার সমস্যা হয়, যা দীর্ঘদিন চললে হজমতন্ত্রের উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ডিম শুধুমাত্র প্রোটিনের উৎস নয়। এতে রয়েছে ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২, প্রয়োজনীয় ফ্যাট এবং নানা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান, যা হাড়, পেশি ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বয়স, ওজন ও শারীরিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে প্রতিদিন কতটি ডিম খাওয়া উচিত, তা নির্ধারণ করা জরুরি। যেহেতু ডিমের প্রকৃতি গরম, তাই গরমকালে অতিরিক্ত ডিম খাওয়াও উচিত নয়।
সব দিক বিবেচনা করে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের একটাই পরামর্শ—পুষ্টির সর্বোচ্চ লাভ পেতে এবং ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে ডিম সবসময় সেদ্ধ বা ভালোভাবে রান্না করেই খাওয়া উচিত। কাঁচা ডিম খেয়ে বেশি প্রোটিন পাওয়ার ধারণা শুধু ভুলই নয়, বরং স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনকও হতে পারে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.