Gold: বিয়ে, উৎসব কিংবা ভবিষ্যতের সঞ্চয়— ভারতীয় পরিবারের কাছে সোনা শুধু অলঙ্কার নয়, আবেগ ও বিনিয়োগেরও প্রতীক। তাই সোনার গয়না কেনার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল তার বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা। বাজারে এখন নানা ধরনের নকল বা গোল্ড-প্লেটেড গয়না পাওয়া যায়, যা অনেক সময় সাধারণ ক্রেতার পক্ষে চেনা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আসল সোনা যাচাইয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হল অনুমোদিত জুয়েলার্স বা হলমার্কিং সেন্টারে পরীক্ষা করানো। তবে ঘরেও কিছু সহজ পদ্ধতিতে প্রাথমিকভাবে বোঝা সম্ভব গয়নাটি খাঁটি কি না। যদিও এই পরীক্ষাগুলি শতভাগ নিশ্চিত ফল দেয় না, তবুও সন্দেহজনক গয়না চিহ্নিত করতে সাহায্য করতে পারে।
১. হলমার্ক পরীক্ষা করুন

সবার আগে গয়নার গায়ে থাকা হলমার্ক খেয়াল করুন। ভারতে খাঁটি সোনার গয়নায় সাধারণত BIS হলমার্ক থাকে। এর সঙ্গে সোনার বিশুদ্ধতার মানও উল্লেখ থাকে, যেমন 22K916, 18K750 বা 14K585। পাশাপাশি নির্মাতা বা জুয়েলার্সের কোডও থাকে।
তবে শুধুমাত্র হলমার্ক থাকলেই যে গয়নাটি আসল, তা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কারণ বর্তমানে নকল স্ট্যাম্পও তৈরি হচ্ছে। তাই এটি প্রাথমিক যাচাই হিসেবে কাজে লাগে।
২. ম্যাগনেট টেস্ট করুন
খাঁটি সোনা চুম্বকের প্রতি আকৃষ্ট হয় না। একটি শক্তিশালী ম্যাগনেট গয়নার কাছে ধরুন। যদি সেটি টান অনুভব করে, তাহলে বুঝতে হবে গয়নাটিতে অন্য ধাতুর পরিমাণ বেশি থাকতে পারে।

তবে এই পরীক্ষার সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। কারণ কিছু নন-ম্যাগনেটিক ধাতুও চুম্বকে আকৃষ্ট হয় না। তাই শুধুমাত্র এই পরীক্ষার উপর নির্ভর করা উচিত নয়।
৩. রঙের পরিবর্তন লক্ষ্য করুন
গয়নার কোণা, ক্ল্যাপস বা যেসব অংশ ত্বকের সঙ্গে বেশি ঘষা লাগে, সেগুলি ভাল করে দেখুন। যদি সেখানে রঙ উঠে যাওয়া, কালচে দাগ, তামাটে বা রুপোলি স্তর দেখা যায়, তাহলে সেটি সম্ভবত গোল্ড-প্লেটেড।
আসল সোনা সাধারণত দীর্ঘদিন একই রঙ বজায় রাখে এবং সহজে কালচে হয়ে যায় না।
৪. সিরামিক প্লেট টেস্ট
একটি আনগ্লেজড সিরামিক প্লেটের উপর গয়নাটি আলতোভাবে ঘষুন। যদি সোনালি রঙের দাগ পড়ে, তাহলে সেটি আসল সোনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে কালো দাগ দেখা গেলে সেটি অন্য ধাতুর হতে পারে।

তবে এই পরীক্ষায় গয়নায় আঁচড় লাগার আশঙ্কা থাকে। তাই খুব সতর্কভাবে এটি করা উচিত।
৫. ত্বকের প্রতিক্রিয়া খেয়াল করুন
খাঁটি সোনা সাধারণত ত্বকের সঙ্গে রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া করে না। কিন্তু গয়না পরার পরে যদি ত্বকে সবুজ বা কালো দাগ দেখা যায়, তাহলে সেটিতে অন্য ধাতুর মিশ্রণ বেশি থাকতে পারে।
যদিও অনেক সময় ঘাম, প্রসাধনী বা ত্বকের স্বাভাবিক রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণেও এমন দাগ হতে পারে। তাই এটিকে একমাত্র পরীক্ষার মাধ্যম হিসেবে ধরা ঠিক নয়।
কখন বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেবেন?
ঘরোয়া পরীক্ষার পরেও যদি সন্দেহ থেকে যায়, তাহলে কোনও বিশ্বস্ত জুয়েলার্স বা হলমার্কিং সেন্টারে গয়না পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। বর্তমানে XRF টেস্ট, অ্যাসিড টেস্ট ও ডেনসিটি অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে সোনার বিশুদ্ধতা অনেক বেশি নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব।
সোনা কেনার সময় সচেতন থাকলে প্রতারণার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। তাই বড় অঙ্কের বিনিয়োগের আগে অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.